খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন : ফখরুল

0

বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াকে নিয়ে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার অথবা বিনিয়োগ কোনো অভিযোগ আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। অবৈধ্য ফখরুদ্দিন ও মাঈনউদ্দিন সরকার এবং শেখ হাসিনার অনৈতিক অবৈধ সরকার তন্ন তন্ন করে সারা বিশ্বে খোঁজ করেও আজ পর্যন্ত কোনো সম্পদের অস্তিত্ব পায়নি। বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং সম্পদের কল্প কাহিনী তৈরি করে জোর করে গণমাধ্যমকে দিয়ে তা প্রচারের অপচেষ্টা শুধুমাত্র শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণতা, রাজনৈতিক সংকির্ণতা, অন্তসারশূণ্যতা ও দেউলিয়াপনাই প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ধরণের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু রাজনীতিকে কলুষিত করছে না ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছ রাজনীতিবিদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করবে। আমরা আবারো দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই এই সব বানোয়াট তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে এই ধরণের মানহানিকর মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বেআইনি মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করুন এবং এই মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব।

মির্জা ফখরুল বলেন,  কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়বেন না। উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্টের নামে যে মেগা লুট করছেন তা জনগণ জানেন। পদ্মা সেতু প্রকল্প, রূপপুর আনবিক শক্তি প্রকল্প, পায়রা বন্দর, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেডএক্সপ্রেসওয়ে, ভিওআইপি, স্যটেলাইট স্টেশন, প্রতিটি সেতু, সড়ক, মহাসড়ক, প্রতিটি আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটে যে অভিযোগ উঠছে জনগণ তা হিসাব নিচ্ছে।
তিনি বলেন, এদেশের পত্র-পত্রিকা, বিদেশের পত্র-পত্রিকা আপনাদের দলের মন্ত্রী, নেতা ও পরিবারে সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। কানাডার বেগম পাড়া, বৃটেন, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বেলারুস, সুইচ ব্যাংক, পানামা অবশোর ইনভেষ্টম্যান্ট তালিকায় আপনাদের অনেকের নাম উঠে আসছে। ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, সিএটল বাফেলোসহ আমেরিকা ও কানাডাসহ ব্যায়বহুল শহরগুলোতে কাদের সন্তানদের  এবং পরিবারে সদস্যদের নামে বাড়ি ও সম্পদ কেনা হয়েছে তার হিসেব জনগণ রাখছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে এই দুর্নীতির মাধ্যমে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.