বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ফিফা প্রীতি ম্যাচের শেষ লড়াই আজ, বসুন্ধরা কিংসের মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় খেলা শুরু। প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন ব্যাকফুটে। হার-জিতের চেয়েও বড় কথা হচ্ছে বাংলাদেশ ১৮ মিনিটে গোল হজম করে সেই গোল শোধ দিতে পারেনি। মালদ্বীপের গোলরক্ষক শরিফ হুসেন ভালো খেললেও আহামরি কোনো সেভ দিতে পারেননি। আক্রমণভাগে রাকিব, মুরসালিনরা লক্ষ্যহীন চেষ্টা করেছেন, আর সেগুলো ঠেকাতে মোটেও কষ্ট করতে হয়নি মালদ্বীপের গোলরক্ষককে। তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে অবাক হয়েছেন।
যে দলটি একটানা এক বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি, শেষ ম্যাচ খেলেছে এই বাংলাদেশের বিপক্ষে। আবার সেই বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলতে ঢাকায় এসেছে মালদ্বীপ। সেই দলটা কীভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল। উচ্ছ্বসিত হয়ে মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় এসে আজকের খেলা উপভোগ করার কথা রয়েছে। মালদ্বীপের ফেডারেশনে সাংগঠনিক সংকট চলছে। ফিফার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এতো অস্থিরতার মধ্যেও তারা দেশের মানুষকে দারুণ একটা জয় উপহার দিয়েছে।
বাংলাদেশ লজ্জার হার হেরেছে। তপু, মোরসালিন, রহমত, সাদ উদ্দিন, হৃদয়, ফাহিম, রাকিবরা দেশের ফুটবল দর্শকদের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছেন। এভাবে কেউ হারে না। গোল হজম করতেই পারে, কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারবে না তা কি করে হয়। দুই-চারটা শট প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে মেরেই যদি গোল হয়ে যায় তাহলে….। দায়িত্বপূর্ণ শট ছিল না। গোলরক্ষককে বিপদে ফেলার মতো একটা শটও নিতে পারেননি। সেটপিস থেকে গোল হজম করেছে। আলী ফাসির ফাঁকায় দাঁড়িয়ে গোল করেছেন। রক্ষণভাগ কী করেছে সেটা তারা ম্যাচের পর ভিডিওতে দেখেছেন। এসব নানা কারণে লজ্জার হার বলছে মানুষ।
আজ কি ম্যাচ জিতে লজ্জা ঢাকতে পারবে? পারুক না পারুক যে ইতিহাস মালদ্বীপ করেছে তা সহজে ভুলার মতো না। মালদ্বীপ ফুটবল দল বাংলাদেশকে হারিয়ে তারা বসে নেই। পরদিনই অনুশীলন করেছেন। বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ফিফা দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ, সন্ধ্যা ৬টা গতকাল বিকালে ঘণ্টা দেড়েক অনুশীলন করেছেন ফুটবলাররা। তবে তাদের ঘরে সমস্যা দেখা দিয়েছে, একজন ফুটবলারের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, ডেঙ্গু আশঙ্কা করা হচ্ছে। অধিনায়ক সামুহ আলীর মাংশপেশিতে টান লেগেছে গতকালকের অনুশীলনে। এই ফুটবলার আজ নামতে পারবেন কিনা বলা কঠিন।
প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের কে নামলেন আর কে নামলেন না, বাংলাদেশের ছাদের তলায় সেটা নিয়ে চিন্তা নেই। নিজেদের বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় ব্যাপার। মালদ্বীপের কোচ আলী সুজাইন গতকালও জানিয়েছেন তারা জয়ের জন্য এসেছেন। তাদের ফেডারেশনে কি সমস্যা, সেটা মাঠের বাইরের ব্যাপার। মাঠের লড়াইয়ে জয়পরাজয় নির্ধারণ হয়। মালদ্বীপের ফুটবল দর্শক খুশি হয়েছে জয় পাওয়ায়। জয়ের জন্য মালদ্বীপ এসেছে, আজ শেষ ম্যাচেও জয়ের জন্য নামবে।’
বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা সব সময় একই কথা বলেন। তার ছেলেরা ভালো খেলেছে। প্রথম ম্যাচ হেরে হোটেলেই ছিলেন ফুটবলাররা। কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা কাল অনুশীলনে নেমে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, ‘সবার প্রত্যাশা ছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা আমরা করতে পারিনি। আমরা আমাদের ফুটবলারদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছি। আপনারা দেখবেন। ক্রস হচ্ছে কিন্তু গোলে পরিণত হচ্ছে না। এটাই দুঃখজনক। আমরা বিশ্বাস করি এবার আর ছেলেরা ভুল করবে না। গোল আদায় করতে পারবে’-বললেন কোচ।
মাঝমাঠের ফুটবলার সোহেল রানা বললেন, ‘প্রথম ম্যাচটা আমরা জয়ের দাবি রাখি। গোল ছাড়া সবই করেছি। আজকে জয়ের জন্যই মাঠে নামছি। কে গোল করবে সেটাই দেখার বিষয়।’ কোচ এবং সোহেল রানা, দুই জনের কথার সুর এক, আজ গোল চাই গোল। স্প্যানিশ কোচের পরিকল্পনা বার বারই সমালোচিত হয়েছে। প্রথম ম্যাচ দেখে সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ প্রবল সমালোচনা করেছেন। বাফুফের সদস্য সাবেক গোলরক্ষক ছাইদ হাসান কাননও সমালোচনা করেছেন কোচের ভূমিকা নিয়ে।
গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত সাফে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলেছিল। সেখান থেকেই ফিরেই বেতন বাড়ানোর আবদার করলে সেটি পূরণ করতে বাধ্য হন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। এবার তার ভাগ্যে কি আছে তা আগাম বলা যাচ্ছে না। তবে বাফুফের বর্তমান বোর্ড বিষয়টি নিয়ে ভাববে সেটা মালদ্বীপের কাছে হারের পরই স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে গেছেন কানন।