দুদিন আগে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যেসব সহায় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার প্রতিকার করা হবে দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে। এর পরই ওই প্রদেশের বেশ কিছু জেলা প্রশাসন প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সনাক্ত করে তাদের সম্পত্তি জব্দ করা শুরু করেছে। এই জব্দ করা অর্থ দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে।
এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, শনিবার থেকে এমন কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। এদিন এ প্রদেশের রামপুরে সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। আরো একজন সম্প্রতি কানপুরে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। তিনিও শনিবার দিনশেষে মারা গেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার মতে, বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮।
ওদিকে ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, মুজাফফরনগরে প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের ৫০টি দোকান সিল করে দিয়েছে। বলা হয়েছে, এর মালিকরা দাঙ্গায় জড়িত। তারা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন। সিল করে দেয়া দোকানগুলো মিনাক্ষীচক ও কাচ্চি সাদাক এলাকায়। এখানেই বড় রকমের সংঘর্ষ হয়েছে।
এসএসপি অভিষেক যাদব বলেছেন, এসব দোকান কেন বন্ধ করা হয়েছে তা আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। উত্তর প্রদেশজুড়ে যে সহিংসতা চলছে তাতে কারা জড়িত তা সনাক্ত করতে প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়া হবে। এই অভিযান সহিংসতা কমাতে কাজ করবে বলে মনে করছে সূত্র।
ওদিকে ফিরোজাবাদের পুলিশ প্রধান সচিন্দ্র প্যাটেল বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সি এনএসএ’কে।
ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে লক্ষেতে জেলা প্রশাসন চার সদসের একটি প্যানেল গঠন করেছে। এই এলাকায় বড় রকমের দাঙ্গা হয়েছে।
ফিরোজাবাদ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্র বিজয় সিং বলেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন আমরা তাদেরকে সনাক্ত করার কাজ করছি। অন্য কয়েকটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ প্রধানরা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে মুজাফফরনগর জেলা প্রশাসনের কর্মকান্ডে এরই মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত মুখ্য সচিব আওয়ানিশ আওয়াসথি বলেছেন, ২০১৮ সালর ১লা অক্টোবর রাজ্য সরকারের জন্য কঠোর একটি নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। তাতে জন সম্পত্তি ক্ষতি করেছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এসবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।