ভুল করে হেলিকপ্টার নেমে এলো গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারা কমপ্লেক্সের ভেতর সংরক্ষিত এলাকার স্কুল মাঠে। স্কুলে তখন ক্লাস চলছিল। হঠাৎ এই হেলিকপ্টার অবতরণে কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার ২ এ। এই কারাগারে দেশের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও সন্ত্রাসী বন্দি রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মেঘনা এভিয়েশনের ভাড়া করা এই হেলিকপ্টারটি অবতরণ নিয়ে তোলপাড় চলে।
ওই হেলিকপ্টারে মালয়েশিয়াপ্রবাসী পোলট্রি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। প্রবাসী ওই ব্যক্তি বলছেন, ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে।
হেলিকপ্টারের পাইলট উইং কমান্ডার (অব.) সোহেল লতিফসহ তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে কাশিমপুর কারাগার ২ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন মেঘনা এভিয়েশনের কর্তৃপক্ষ। কারা অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশনের ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুর রহমান নিশ্চিত করে বলেন, ভুল করে হেলিকপ্টারটি এখানে নেমেছে।
মেঘনা এভিয়েশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক বিল্লাল হোসেন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মেঘনা এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু পাইলট ভুল করে কারাগারের সংরক্ষিত এলাকার খোলা স্থানে অবতরণ করেন। মালেশিয়াপ্রবাসী এই পরিবারটি ১৫ দিন আগে দেশে আসেন।
গাজীপুরের কোনোবাড়ির কুদ্দুসবাড়িতে তাদের একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে। অনুষ্ঠানে আসা-যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারটি ভাড়া করেন বিল্লাল হোসেন। কুদ্দুসবাড়িতে একটি ফাঁকা স্থানে এটি অবতরণ করার কথা।
আজ সোয়া ১১টার দিকে হেলিকপ্টারটি বেল এস ২এআইএ ভুলবশত কাশিমপুর কারাগার ২ এর পাশে স্কুল মাঠে অবতরণ করে। মেঘনা এভিয়েশন এ ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পোলট্রি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ।
কাশিমপুর কারাগার ২ এর জেল সুপার প্রশান্ত বলেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। পাইলট ভুল করে কুদ্দুসবাড়ির ফাঁকা মাঠ মনে করে কারাগারের স্কুল মাঠে অবতরণ করে। এটির সঙ্গে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটার কোনো সম্পর্ক নেই। মেঘনা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরাও সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কথা বলেছি।