দেশে কোনও মানুষের নিরাপত্তা নেই : ফখরুল

0

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ভাঙার চেষ্টা করছে। এ জন্য শরিক দল কল্যাণ পার্টির মহাসচিবকে অপহরণ করে অন্যদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জোট ভাঙার চেষ্টা অতীতেও হয়েছে কিন্তু পারেনি। জোট অটুট আছে। রাষ্ট্র যদি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করে সঠিক তথ্য না দেয়, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তো রাষ্ট্রই। অথচ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে যদি কেউ গুম হয়ে যায় তাকে খুঁজে বের করা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গুম শুরু হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে কোনও মানুষের নিরাপত্তা নেই।

শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০-দলীয় জোটের মহাসচিবদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন। জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানসহ সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে ফেরত দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

দেশে কোনও মানুষের নিরাপত্তা নেই এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের ৩০০ এর কাছাকাছি নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। গুম হচ্ছে মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ। এর পরিণতি হয় করুণ। একদিন না একদিন বিভিন্ন দেশে এর বিচার হয়।

এমএম আমিনুর রহমানসহ সকল নিখোঁজ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার তা মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনো সভ্য সরকার হলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা ডাকতো। আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলা করতে জাতীয় ঐক্য তৈরি করা হোক। কিন্তু সরকার তা না করে রোহিঙ্গাদের বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ দিতেও বাধা দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেন জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করে। সেটিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, গত ২৭ আগস্ট নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে সাভারে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে এখনও বাসায় পৌঁছায়নি এম এম আমিনুর রহমান। তাকে দল ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটে নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, মোস্তফা জামাল হায়দার, রেদোয়ান আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, মজিবুর রহমান পেশোয়ারি, সাইফুদ্দিন মনি, সাঈদ আহমেদ, মহিদ্দিন একরাম।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.