নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকার ষোল বছর বয়সী সামিয়া আক্তার নামে এক কিশোরী গত ৩০শে জুন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। কিশোরী সামিয়া আক্তার ঐ এলাকার জাহেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া তাজুল ইসলামের মেয়ে।
থানায় অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৩০শে জুন নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্না এলাকায় তার বাসা থেকে সামিয়া আক্তার বের হয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। তারা আত্নীয়স্বজনের বাসায় অনেক খোজাখোজি করেও তাকে না পেয়ে গত ৩১ শে জুলাই ২০২৪ইং তারিখে খুলশী থানায় হারানো জিডি করেন সামিয়ার পরিবার। যার জিডি নম্বর ৩২। নিখোঁজের ৫দিন পার হলেও পূলিশ এখনো এই কিশোরীর সন্ধান দিতে পারেননি। এদিকে কিশোরীর মাতা তছলিমা একমাত্র মেয়ে হারিয়ে কষ্টে ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সামিয়ার বাবা দিন আনে দিন খায়। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছি।
সামিয়ার শোকার্ত মা আরো বলেন, গত ৩০শে জুন অনেক খোজাখোজি করে মেয়েকে না পেয়ে খুলশী থানায় জিডি করেছি। অপহরনের আগে গত কিছুদিন ধরে আমার মেয়েকে ঝাউতলা পানির টাংকি এলাকার সেলিমের পুত্র সোহেল নামে এক যুবক তাকে আসা যাওয়ার পথে জ¦ালাতন করতো বলে জানিয়ে ছিল সামিয়া। আমরা ইভটিজিংয়ের বিষয় জানতে পেরে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় আমরা কেউ না কেউ মেয়ের সাথে যাই। ৩০শে জুন আমার মেয়ে বাসাতেই ছিল। আমি ভিতরের রুমে ছিলাম। সামনে এসে দেখি সে নাই। অনেক খোজাখোজি করেও তাকে এলাকা ও কোন আতিœয়ের বাসায় পেলামনা। নিরুপায় হয়ে ঝাউতলা পানির টার্ংকি এলাকায় সোহেলের বাড়িতে গেলে তারা প্রথমে আমার মেয়ে সেখানে গেছে বিষয়টি অস্বিকার করে।
একপর্যায়ে সামিয়ার মা অভিযোগের সুরে বলেন, আমরা সোহেলদের বাড়িতেও গিয়েছি। সেখানে সোহেলের ফুফু পরিচয় দিয়ে পারুলী নামের একজন মহিলা বলেন, আমার ভাতিজাও বাড়িতে আসেনি। তোমার মেয়ে মনে হয় আমার ভাতিজাকে নিয়ে পালিয়েছে। সে উল্টো আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে ঘর থেকে বের করে দেয়। বার বার থানার আইওকে ফোন দেই। তিনি শুধু বলেন, আমি তদন্ত করছি। আমার একটা মাত্র মেয়ে। এখনো আমার মেয়ে ঘরে ফিরে আসে নাই। কি করবো, কোথায় যাবো বুঝতেছিনা। আমি আমার মেয়ে ছাড়া বাচবোনা।
এ বিষয়ে খুলশী থানার সাব ইন্সপেক্টর রাজীব দে বলেন, মেয়ের মা নিখোঁজ ডায়রী করেছে। আমি উদ্ধারে সার্বিক চেষ্টা করছি।
এ নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলালকে ফোন দিলে তিনি বলেন, মেয়েটি অপহরনের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি বা কোন অভিযোগ দেয়নি। তাদের পরিবার অভিযোগ দিলে বিষয়টি আমি দেখবো।