নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ডিএফও ব্যবস্থাপক নিজাম হায়দারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ফ্যাসিষ্ট সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন বিধায় নিজের দুর্নীতি ও অনিয়মকে তিনি নিয়মে পরিণত করে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন ও কৌশলে নিজের অবস্থানকে সুদঢ় করেছেন। তার দুর্নীতি ঢাকতে কর্মিদের সাথে দুর্ব্যবহার ও কয়েক কর্মিদের ট্রান্সফারও করেছেন। এই ভয়ে অনেক কর্মিরা তার অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছেন বলে জানা যায়। এই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মোশারফ হোসেন নামে দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত এক উচ্চমান সহকারীর প্রতি বৈষম্য ও অবিচার করার অনেক অভিযোগ সরকারী দপ্তরে দেয়া চিঠিতে উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী মোশারফ প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিগত পহেলা আগষ্ট ১৯৯৯ তারিখ হতে বাপক মোটেল সৈকত চট্টগ্রামে যোগদান করি, সেই হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাপক রুপপুর ঈশ্বরদী পাবনার পর্যটন বার এন্ড রেস্তোঁরায় ইউনিটের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে মোঃ নিজাম উদ্দিন হায়দার, ব্যবস্থাপক (ডিএফও) পদে যোগদানের পর আমার প্রতি বিভিন্নভাবে অবিচার ও বৈষম্য করে আসছেন। উনার ভাগীনা আঃ আল মামুন (সহঃ পরিবেশক) কর্মরত পর্যটন বার এন্ড রেস্তোঁরা ইউনিটে ডিউটি শিপট ইনচার্জ থাকাকালিন রোস্টার অফিস নিয়ম/ দায়ীত্ব কালীন সময়ে তাহার ক্যাশসর্টসহ সেল কম দেখিয়ে হাতে টাকা রেখে দেওয়া নিয়ে তার দুর্নিতি বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি তার মামা ব্যবস্থাপক মোঃ নিজাম উদ্দিন হায়দারকে বিভিন্ন সময়ে ফোনে অবহিত করতেন, তিনি তখন সংসদ ভবন ভিআইপি ক্যাপটেরিয়া ইউনিট ব্যবস্হাপক পদে দায়ীত্বে ছিলেন তখন হতে ব্যবস্থাপক মহোদয় আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। নিজাম উদ্দিন হায়দার নিজেও সংসদে গুরুতর দূর্নিতির সাথে ছিলেন। তাই গত ২৯ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে আমার বিষয়ে পর্যটন বার এন্ড রেস্তোঁরা রূপপুর, ইউনিটের ব্যবস্থাপক/ সহকর্মিগনের কোন লিখিত অভিযোগ ছাড়া ম্যানাজার (ডিএফও) পদে যোগদানের পর অবৈধ বৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব পদবীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে (ডিএফও) প্রশাসন বিভাগ হতে উপব্যবস্থাপক মোঃ মোক্তার হোসেনকে দিয়ে ইউনিট ব্যবস্থাপককে ফোন করিয়ে আমার ডিউটি বন্ধ করে আমাকে বদলী করে দিয়েছেন বলে জানান। অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় কোন ইউনিটে যোগদান করবো বলেও জানান। অদ্যবিধি আমার যোগদান বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বিধায় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছি তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় আমার উপর তার অমানবিক অবিচার ও বৈষম্য নিয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় উপদেষ্টাকে অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছি। কি দোষে আমাকে চাকুরীচ্যুত করেছে, তার কোন কারণ দর্শানো নোটিশও আমাকে দেয়নি তারা।
ভুক্তভোগী মোশারফ আরো বলেন, নিজাম উদ্দিন হায়দার বিগত ফেসিষ্ট সরকারের আস্থাভাজন লোক ছিলেন। তাই যত দূর্ণীতি করেছেন কেউ কোন কিছু ভয়ে বলতে পারে নাই। তিনি অনেক চালাক মানুষ। কৌশলে সব ম্যানেজ করেন। তিনি সংসদ ক্যাপেটেরিয়া ব্যবস্থাপক থাকা কালিন মার্চ-২৪ হতে মে-২৪ পর্যন্ত অফিস না করে সরকারী সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেন। কার্যসহকারীদের সঙ্গে সবসময় দাম্ভিকতার সাথে রুঢ় ব্যবহার করেন বিধায় সবাই মিলে উনার বিরুদ্ধে বিগত ২জুন, ২০২৪ তারিখে দুর্ণীতির অভিযোগ দেন। তিনি বদলী ঠেকানোর জন্য পুনরায় চেয়ারম্যান মহোদয়কে কার্যসহকারীদের বিষয়ে অভিযোগ সত্য নয় বলে বিগত ১৩জুন, ২০২৪ তারিখে চিঠি দেন। তার বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি অনেক চাতুর্য দিয়ে এসব ম্যানেজ করেন। আমি এই সেক্টরে সততার সাথে দির্ঘ সময় চাকুরী করার পর উনার কুটনৈতিক চালের কারনে চাকুরী হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানষিক হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
এ বিষয়ে ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন হায়দারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি চাকুরীকালিন সময়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তা আমার কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। মোশারফ দৈনিক ভিত্তিতে পদে নিয়োগ পেয়েছিল। সে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। মোশারফের চাকুরী হারানোর কারন জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, তার চাকুরী হচ্ছে অস্থায়ী। সে তার কারনে চাকুরী হারিয়েছে ।
এ বিষয়ে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সায়মা শাহিন সুলতানাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি বেশিদিন হয়নি। এরমধ্যে সব গুছিয়ে নিচ্ছি। নিজাম উদ্দিন হায়দারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত হবে। কেউতো আইনের উর্দ্ধে নয়।