পানছড়ির হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

0

আব্দুল মজিদ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পানছড়িতে সেনাসৃষ্ট ঠ্যাঙারে বাহিনী কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা ও খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সভাপতি লিটন চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা ও ইউপিডিএফ সংগঠক রুহিন ত্রিপুরাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং ইউপিডিএফ-এর সংগঠক হরি কমল ত্রিপুরা, নীতি দত্ত চাকমা, মিলন চাকমাকে অপহরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।

সমাবেশে পিসিপি চবি শাখার সাধারন সম্পাদক রোনাল চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় সভাপতি অঙ্কন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নীতি চাকমা এবং

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি এডভোকেট ভূলন ভৌমিক, সাম্যবাদী আন্দোলন চট্টগ্রাম নগরের নেতা অপু দাশ গুপ্ত, গনতান্ত্রিক ছাত্র জোট চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী নগর আহ্বায়ক আবিদ ইসলাম প্রমুখ।

পিসিপি সভাপতি অঙ্কন চাকমা বলেন, পানছড়িতে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড করে সরকার যে রক্ত রক্ত খেলায় মেতে উঠেছে সেটা হাসিনা সরকারের ফ্যাসিস্ট রূপ। এই খুন-রক্ত আপনার গায়ে এসেও লাগবে৷

বিপুল চাকমার স্মৃতিচারণ করে তিমি বলেন,বিপুল চাকমা খাগড়াছড়িতে ইতি চাকমাকে হত্যা, কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টে তনু হত্যা, আলুটিলা ভূমি রক্ষার আন্দোলন এবং বিলাইছড়িতে সেনা সদস্য কতৃক ০২ সহোদরা মারমা কিশেরীকে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন সহ সারা দেশে নিপীড়িত-নির্যাতিত-মেহনতি মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জনগনের মুক্তির আকাঙ্খায় ছাত্র-যুব সমাজকে সংঘটিত ও সচেতন করতে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম চষে বেড়িয়েছেন। বিপুল চাকমার বহু সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারী রয়েছে। তাঁরাও আগামী দিনের বিপুল হতে প্রস্তুত রয়েছেন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবং লড়াই সংগ্রামের শেষ ফলাফল তাঁরা দেখতে প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভরে দিন-দুপুরে ০৭ খুনের ঘটনার কোন বিচার না হওয়া এবং অপরাধীদের সেনাদের আশ্রয় প্রশ্রয় প্রদান ও ব্যবহার গতকালকের ঘটনা তৈরি করেছে।

সভানেত্রী নীতি চাকমা বলেন,”পার্বত্য চট্টগ্রামে যে হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হচ্ছে এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিকামী জনগণের আন্দোলনকে দমন করারা জন্য। শাসকগোষ্ঠীর অঙ্গুলি হেলনে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব ধ্বংস ও জনগণের মনে ভয় ধরানোর জন্য শাসকরা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

এ্যাডভোকেট ভুলন লাল ভৌমিক বলেন,”পাক হানাদার বাহিনীর মতন বর্তমান সরকার পাহাড়ে ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী তৈরি করে পাহাড়ের জনমানুষের উপর গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণকে নিজেদের অধিকারের জন্য নিজেদেরকে শহীদের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে “।

সমাবেশের আগে ডিসি হিল থেকে মিছিল প্রেস ক্লাব হয়ে ঘুরে এসে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে সমাপ্ত হয়। আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩:৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়ে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।সংহতি জানিয়ে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর সভাপতি দীপা মজুমদার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চট্টগ্রাম নগর আহবায়ক অ্যানি চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর সম্পাদক এস এম মেহেদী হাসান, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের নেতা তিতাস চাকমা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল চবি শাখার সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী চবি শাখার সংগঠক রেদোয়ান ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের চট্টগ্রাম নগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শুভ চাকমা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.