বাজার মুল্যের উত্তাপে জনগণের নাভিশ্বাস

0

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বাইরের তাপমাত্রার পাশাপাশি বাড়ছে বাজারের দামের তাপ। সাধারণ মানুষের ভাত তরকারিতে পরিবার নিয়ে দুমুঠো ভাত খেতে এখন নাভিশ্বাস। প্রতিদিনই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর দাম বাড়ছে। আজ এটা নাহয় কাল ওটা। দাম চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সম্পূর্ন নাগালের বাইরে। অনেক জায়গায় সরকারের দেয়া নির্ধারিত মুল্য কেউ মানছেনা। দোকান ভেদেও ‍পন্যর দাম বাড়তি নিচ্ছে দোকানিরা। ভোক্তা অধিকার মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও ব্যবসায়ীরা সেই অভিযানের পর ব্যবসায়ীদের মুনাফার বর্ধিত মুল্যেই নিয়ে থাকে। চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের ঝাজ ‍শুধু বেড়েই চলছে। প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাড়ছে আদা রসুনের দাম। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। আলুর দাম কেজিতে ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা। আর চিনির দাম নিত্যই বাড়ছে। আজ একদাম হলে কাল বেড়ে আরেক দাম। বেড়ে যাচ্ছে বয়লার মুরগীর দাম। প্রতি কেজি মুরগীর দাম ২৫০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে খুচরা ব্যাবসায়ীরা। সাথে সাথে ফার্মের মুরগির ডিম ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে সংকট দেখা দেওয়ায় নতুন করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে আলুর দামও। আমদানিকারকরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকে ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। এ কারণে বাজারে এসব পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নগরীর ষোলশহর ২নং গেইট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আলু কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দাম আরো বেড়েছে। দেশি ও আমদানি রসুন কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। সরকার খোলা চিনির সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিয়েছে ১০৪ টাকা কেজি।

সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত আছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজনে পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও চাল, ডাল, আটা, ময়দার দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল হয়ে আছে এসব পণ্য।

টেকনিক্যাল থেকে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আগে বাজার থেকে যেই টাকা দিয়ে পরিবারের বাজার করেছি। এখন সেই টাকার ডবল দিয়ে একই বাজার করছি। কোথায় যাবো আমরা। আমাদেরতো এই কয়দিনে আয় বাড়েনি। ইদের আগে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি মাত্র ৬০ টাকা দিয়ে। এই কয়েক দিনের ব্যবধানেই দুই কেজি পেঁয়াজের দাম হয়ে গেল ১২০ টাকা। বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যার কারণে ব্যবসায়ীরা নানা কারণ দেখিয়ে তাঁদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এতে করে দিন দিন আমাদের ওপর চাপ বাড়ছেই।’

নগরীর বায়েজীদ বোস্তামী বাজার ঘুরে একই দৃশ্য। দামের তেমন একটা হেরফের নেই। সেখানে এক ক্রেতা রফিক বলেন, ‘পণ্যের দাম বেড়ে পরিবারের খরচ যেভাবে বেড়েছে, আমাদের আয়-রোজগার সেভাবে বাড়েনি। এ অবস্থায় সরকারের উচিত নিত্যপণ্যের দাম যাতে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, সেটি নিশ্চিত করা। এমনিতেই মানুষ খুবই কষ্টে আছে, দামের এই লাগাম টানতে না পারলে মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে।’

বহদ্দারহাট বাজারঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়েছে। বাজারগুলোতে বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, শসা দেশি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০থেকে ১৫০ টাকা, গাজর দেশি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা আম ৪০ গাজর ৫০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ আকারভেদে প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম ও বাড়ছে লাগামহীন। গরিবের মাছ খ্যাত এক কেজী তেলাপিয়া ১৮০ টাকা থেকে ২৫০, ইলিশেতো হাত দেয়া যায়না। যা সাধারন মানুষ চিন্তাও করতে পারছেনা। রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ পর্যন্ত। কাতল ১৮০ থেকে ২৫০ পযন্ত। সিলভার কাপ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা , পাঙ্গাস ছোট ১৫০ থেকে বড় ২০০ টাকায় পাওয়া যায়। আতুরার ডিপো বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি  কেজি গরুর মাংস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ এক সবজী ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মৌসুম না হওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে দশ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.