ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে গোপালগঞ্জ : বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ

0

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ শহরের সর্বত্র প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। দিনে-রাত মিলে কয়েক ঘণ্টা এ লোডশেডিং চলছে যা নিত্য দিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
লোডশেডিংয়ের কারনে স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেও পড়াশুনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে গ্রাহকদের মোমবাতি, কেরোসিন ও জেনারেটরের আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তারপরও বিদ্যুতের বিল উঠে চলছে সমান তালে।
সরেজমিনে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা জেনারেটর বিল আর বিদ্যুৎ বিল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অনেকে সৌর বিদ্যুৎ চালু করতে বাধ্য হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীরাসহ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। জেলার কোথাও কোথাও ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৮/১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কারনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। গত ৫/৬ দিনের লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ নির্ভর শিল্প-কারখানা, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প, ওয়ার্কশপ, রাইস মিল, পোল্ট্রি ফার্ম, ফটোষ্ট্যাট, কম্পিউটার ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়েছে গোপালগঞ্জ শহরের পার্শ¦বর্তী অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেচ ব্যবস্থা। এছাড়া বিদ্যুতের ঘন-ঘন ভেল্কি বাজিতে গ্রাহকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং আর লো-হাই ভোল্টেজের কারণে নষ্ট হচ্ছে মোটর, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ নানা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ।
এ ব্যাপরে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ ওজোপাডিকো লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ এর এ রকম লোডশেডিং হচ্ছে।
কোটালীপাড়া : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের ভেলকি বাজিতে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়া। দীর্ঘ দিন যাবত এখানে পল্লী বিদ্যুত “এই আছে আর এই নেই” ভাবে চলছে। এতে উপজেলার সাধারন জনগনের জনজীবন, স্কুল,-কলেজ পড়–য়া ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, কম্পিউটার-ল্যাপটপ, ওয়ার্কসপ, কল-কারখানা, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ জরুরি রুগিদের এক্সরে, ইসিজি আলট্রাসনোসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার বিঘœ ঘটছে। এতে পল্লী বিদ্যুত সমিতির কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এছাড়াও দুই-চার দিন পরপর মাইকিং করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয় বিদ্যুৎ। তাতে অন্যান্য পেশার মত সাংবাদিকদের ও পেশাগত কাজ ও সংবাদ সংক্রান্ত ব্যাপারে দারুন ভাবে বিঘœ ঘটছে। টিভি-ফ্রিজ কিনেও মানুষ বিপদে পড়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকার খাদ্য দ্রব্য, মাছ-মাংস ফ্রিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কাশিয়ানী : মে মাসের মাঝামাঝি থেকে গরমের শুরুতেই লোড শেডিংয়ের কবলে পড়ছে কাশিয়ানী বাসী। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন কাশিয়ানীবাসী। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সারা রাত বার বার লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিক মতো লেখাপড়া করতে পারছে না। বার বার লোড শেডিংয়ের কারনে রাতের বেলা উপজেলার মানুষ একটু শান্তিতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেনা। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ ঘন্টা লোড শেডিং নিত্য দিনের সাথী হয়ে দাড়িয়েছে। একে তো গরমের দিন তার পরে বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারনে কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২,২৮,৬৪৭ জন মানুষের বসবাস, তার পরেও এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা ব্যবসা, শিক্ষা ও গৃহস্থলি কাজ কর্ম মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে লোড শেডিংয়ের কারনে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট চৌরঙ্গী বাজারের কম্পিউটার ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, বিদ্যুৎ এর লোড শেডিংয়ের কারনে কম্পিউটারের কাজ ঠিক মতো করতে পারছিনা। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে গোটা উপজেলা অন্ধকার বিরাজ করে। লোড শেডিংয়ের কারনে সারাক্ষণই বিদ্যুতের আশায় বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোড শেডিংয়ের কারনে পিছিয়ে পড়েছে এখান কার সার্বিক উন্নয়ন। লো-ভোল্টেজের কারনে সেচ কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। সেচ পাম্পের মটর, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরকারি নিয়মানুযায়ী লোডশেডিংয়ের সময়সীমা ১ঘন্টা নির্ধারিত থাকলেও কোন কোন ফিডার লাইনের এলাকা গুলোতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ২ থেকে ৩ ঘন্টা পরেও আর আসে না। আবার কোন কোন ফিডার লাইন এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও ১ ঘন্টার মধ্যেই ফিরে আসে। কাশিয়ানী অফিস থেকে বলা হচ্ছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে বিদ্যুৎ লোডশেডিং হচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.