শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বান্দরবানে সম্প্রীতির মিছিল

0

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজী, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সম্প্রীতির বন্ধনে মিছিল করেছে বান্দরবানে সর্বস্তরের জনতা। বান্দরবানে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ থেকে মিছিল শুরু হয়ে উজানী পাড়া-মধ্যম পাড়া ও বাজার প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবে চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে ব্যানার প্লেকার্ড হাতে নিয়ে মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, চাকমা, খুমী, বম ও বাঙ্গালীসহ ১২টি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ অংশ নেন। সেখানে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

এর আগে প্রেসক্লাব চত্বরে একটি পথ নাটক মঞ্চায়ন করেন বান্দরবানের স্থানীয় সাংস্কৃতিক দল। সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রীতিতে অনন্য বান্দরবান ছিল। এই জেলায় ১২টি জাতি এখানকার সবাই সহনশীল। একে অপরের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলে সহবস্থানে বসবাস করে আসছিল। কয়েকবছর ধরে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে এই বান্দরবানকে অশান্তি পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।

আগামীতে যে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্প্রীতি বিনষ্ট করা ও স্বার্থান্বেষী মহল যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটাতে না পারে সেদিকে সোচ্চার থাকতে হবে। পারস্পরিক সমঝোতার মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে, এমন প্রত্যাশার কথা বলেন সব সম্প্রদায়ের নেতারা।

সম্প্রীতির বন্ধনে মিছিল শেষে সভাপতি বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি তনয়া ম্রো, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিটিস জন ত্রিপুরা, হোটেল রিসোর্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বান্দরবান সদর বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লাল মুন থাং বম, হেডম্যান এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক উনিংহ্লা মার্মা, বান্দরবান বৌদ্ধ অনাথলয়ের অধ্যাক্ষ সত্যজিত ভান্তে, এ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা, ছাত্র প্রতিনিধি বিটন তঞ্চঙ্গ্যা ও সৈনাং খুমীসহ এই সমাবেশে পাহাড়ি বাঙালি, বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ সামাজিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে ঐতিহ্যবাহী রাজামাঠে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.