সাদুল্যাপুরে বন্যার পানির নিচে সহস্রাধিক বাড়িঘর

0

বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ উত্তরের তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমলেও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ঘাঘট নদীর পানি হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে। আকস্মিকভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার সহস্রাধিক পরিবারের বসতবাড়ি কোমর পানিতে পরিণত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত। ভেসে গেছে মৎস্য চাষীদের পুকুরের মাছ। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে নদীর তীরবর্তী পরিবারগুলো।

ইতোমধ্যে কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানির নিচের শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাঁধ সহ স্বজনের বাড়িতে।

সম্প্রতি বানভাসি মানুষগুলো হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে। অনেক ছিন্নমূল পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়ে খাদ্য সংকট। নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ পানিবন্দী হওয়ায় এসব এলাকার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষজন নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় যাতায়াত করছে।
নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট। চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঘাঘট নদীর তীরের একাধিক স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিসহ শতাধিক ঘড়বাড়ি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সাদুল্যাপুর উপজেলার রসুলপুর, দামোদরপুর জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পুরান লক্ষীপুর এলাকার পানিবন্দী মানুষ গুলো নানা দুর্ভোগে পড়েছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে তারা সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজ ও সাদুল্যাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ওই স্থানে আশ্রয়িত পরিবারের নুর আলম, লাল মিয়া ও লালচান বলেন, আমাদের ঘরবাড়িতে বন্যার পানির উঠায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এমনকি দুবেলা দুমুঠো অন্ন তাদের জুটছে না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশানের উদ্যোগে সাদুল্যাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও রহিমা খাতুন, পিআইও মনিরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান ছামছুল হক, সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান ফারুক ও সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন জাকির প্রমুখ।
ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ১০ কেজি চালসহ ডাল, চিড়া, লবণ, মসলা, তেল, ম্যাচ, বিস্কুট ও মোমবাতি ইত্যাদি।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রহিমা খাতুন বলেন, ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকা সমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষদের দুর্ভোগ নিরসনে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.