স্ত্রীকে আগুনে পোড়ানোর মামলা: দীর্ঘ ৩ বছরেও সঠিক বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী পরিবার

0

Photo-1এম আরমান খান জয়, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্ত্রীসহ তিন জনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার মামলা দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হতে চললেও সঠিক বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগি মোঃআলতাব মোল্লা ও তার পরিবার।

২০১৪ সালের ২৮ শে মার্চ আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর জেলার সালতা উপজেলার চন্ডিবর্দী গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্লার ছেলে পাষন্ড লুৎফর মোল্লা ওরফে মান্দার মোল্লা তার স্ত্রী ও দুই শ্যালিকাকে নির্মম ভাবে পুড়িয়ে মারে। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সঠিক বিচার পাচ্ছে না ওই ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এ ব্যাপারে আলতাব মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমার মেয়ে কুলসুম (১৮) মোবাইলে লুৎফর মোল্লা ওরফে মান্দারের সাথে পরিচয় হয় এবং তাদের বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের পর আমার মেয়ে শ্বশুর বাড়ি যায় নাই তবে জামাই মাঝে মাঝে আমাদের এখানে আসত।একদিন মান্দার আমার মেয়ে কুলসুমকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে তার গলার সোনার হার, কানের দুল ও পায়ের নুপুর নিয়া পালিয়ে যায় পরে এই নিয়ে মেয়ের সাথে মনোমালিন্যের কারনে কুলসুম তাকে ডিভোর্স দেয়। এর পর থেকে তার স্বামী তাকে মোবাইলে নানা রকম হুমকি দিতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ২৮ শে মার্চ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মৃত সাত্তার মোল্লার ছেলে লুৎফর মোল্লা ওরফে মান্দার, নুর মোহাম্মদ, ফারুক মোল্লা, মনু শেখের ছেলে জামাল শেখ, সাত্তার মিয়ার ছেলে তারা মিয়া, কেরামত গাজীর ছেলে রুবেল গাজী মৃত সোবহান শেখের ছেলে কবির শেখ, কামরুল শেখের ছেলে সুমন শেখ,সুবল কর্মকারের ছেলে দেবদাস কর্মকার মিলে সুকৌশলে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে কুলসুম, স্বর্না, সাথীর শুয়ে থাকা অবস্থায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে সময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী টর্চে লাইটের আলোতে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের পালিয়ে যেতে দেখে। এ সময় কুলসুম বাচার জন্য বাড়ির পাশে খালের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়ে ও স্বর্না ও ভাতিজি সাথীর গায়ে আগুন জ্বলতেছিল। এতে কুলসুমসহ ৩ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে যায়। এরপর আমরা কুলসুমসহ ৩ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করি কিন্তু ডাক্তার তাদের অবস্থা আশংকাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠায়।

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন, গরীবদের কি সঠিক বিচার পাওয়ার অধিকার নেই ?। কয়েক বছর যাবত আদালতে চক্কর কেটেও সঠিক বিচার পাইনি। আসামীরা এখনো রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। আমি শুধুমাত্র ন্যায় বিচার চাই। পাষন্ড লুৎফর মোল্লা ওরফে মান্দারসহ যারা আমার মেয়েদের নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
ওই সময় দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে সংবাদটি প্রকাশিত ও প্রচারিত হলেও ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো সঠিক বিচার পায়নি। ওই পরিবারটি যাতে সঠিক বিচার পেতে পারে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, আইন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রীসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকার সাধারন মানুষ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.