কীভাবে আপনার প্রিয় শাড়িগুলি সুরক্ষিত রাখবেন

1

বাঙালি নারী আর শাড়ি এ যেন একে অপরের জন্যই। বারো হাত একখানা শাড়ির সৌন্দর্য্যের কাছে যেন হার মানে অন্যসব পোশাকই। আর তাই তো বাঙালি নারীদের কাছে শাড়ি খুব শখের একটি পোশাক। কিন্তু এই শখের পোশাকটি যদি আমরা যেমন-তেমনভাবে ফেলে রাখি তবে তা টিকবে না খুব বেশি দিন। তাই তো পুরোনো ও দামি শাড়িগুলো অনেকদিন পর্যন্ত ভালো রাখার জন্য চাই বাড়তি যত্ন। তাই এবার শাড়ির যত্ন এবং সংরক্ষণের নানা টিপস দেয়া হলো

১.কাপড় রাখার স্থানটি শুকনো হওয়া আবশ্যক, নতুবা ছত্রাক সংক্রমণের ভয় থাকে।

২.ব্যবহূত শাড়ি ৩ মাস অন্তর ও অব্যবহূত শাড়ি ৬ মাস অন্তর বের করে ধুতে হবে।

৩.শাড়ির ভাঁজে ন্যাপথলিন, কালোজিরা, নিমপাতা শুকনা মরিচ ইত্যাদি দিয়ে রাখুন, এতে পোকায় কাটবে না।

৪.আলমারি বা ট্রাংক যেখানেই শাড়ি রাখুন না কেন, তা যেন ফুটো না হয় নতুবা তেলাপোকা বা ইঁদুরে কাটতে পারে শাড়ি।

৫.কাঠের আলমারিতে শাড়ি রাখলে তা মাঝে খেয়াল করতে হবে আলমারি ঘুণে ধরেছে কি-না, নতুবা শাড়ি কেটে যেতে পারে।

৬.স্টিলের আলমারিতে যেন মরিচা না পড়ে, তাতে শাড়ি নষ্ট হয়।

৭.শাড়ি সঠিক নিয়মে ধোবেন।

৮.বাইরে থেকে এসে কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে শাড়ির ঘাম শুকিয়ে নিন, নতুবা দাগ পড়তে পারে।

৯.শাড়ি রাখার আলমারি শাড়ি রাখার পূর্বে অবশ্যই ঝেড়ে মুছে নিবেন।

১০.মসলিন বা কাতান শাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্যই সাদা কাগজ ব্যবহার করবেন এবং ড্রাই ওয়াশ না করে পলিশ বা কাঁটা ওয়াশ করানোই ভালো।

১১.সুতি শাড়ি ইস্ত্রি করে কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে তুলে রাখুন, অনেকদিনের জন্য রাখতে হলে মার এড়িয়ে যান।

১২.জর্জেট ও শিফন শাড়ি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন, চিপবেন না, শুকালে শাড়ি রোল করে রাখুন, এবং অবশ্যই এই শাড়িগুলোতে নিম পাতা বা কালো জিরা দিয়ে রাখুন।

১৩.কেনার পর প্রথমে শাড়িতে ফলস পাড় লাগিয়ে নিন।

১৪.সুতি শাড়ি প্রথমবার ধোয়ার আগে কিছুক্ষণ লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

১৫.শাড়ি ধোয়ার সময় ব্রাশ দিয়ে বেশি ঘসাঘসি করবেন না।

জেনে নিন কোন শাড়ি কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন দীর্ঘদিন।

সুতি: এমনিতে সাধারণ লন্ড্রি বা বাড়িতেই কাচতে পারেন, কিন্তু শাড়িতে জরির কাজ থাকলে ড্রাই ওয়াশ করাই ভালো। সুতির শাড়িতে স্টার্চ বা মাড় দিতে হয় ঠিকই, তবে বার বার মাড় দেওয়ার কারণে সুতি শাড়ি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

কোরা: মলমলের কাপড়ে জড়িয়ে, লম্বা কাঠের লাঠিতে শাড়ি পেঁচিয়ে রাখুন। কিছুদিন পর পর ভাঁজ খুলে, নতুন করে ভাঁজ করুন। যাতে ভাঁজে ভাঁজে শাড়ি ছিড়ে না যায়। ভুলেও হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখবেন না এই ধরনের শাড়ি।

টিস্যু: বাড়িতে নয়, একমাত্র বেনারসি শাড়ির কারিগরদের হাতেই ওয়াশ করাবেন টিস্যু শাড়ি। সাধারণ ড্রাই ক্লিনিং করলে শাড়িতে ভাঁজ পড়ে যেতে পারে।

শিফন: শিফন শাড়ি খুবই নাজুক। রোলার আয়রন ব্যবহার করবেন না, এতে শিফনের স্বাভাবিক ভাঁজ নষ্ট হয়ে যায়। সেফটিপিনও ব্যবহার না করা ভালো। ভারি এমব্রয়ডারি করা শিফন হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখবেন না, নকশার ভারে শাড়ি ছিঁড়ে যেতে পারে।

আরও কিছু টিপস: দামী শাড়ি মসলিন কাপড়ে মুড়িয়ে রাখুন। এতে শাড়িতে দুর্গন্ধ হয় না। পাশাপাশি ময়লা, ধুলোবালি লাগারও কোনও সুযোগ থাকে না।

মেটাল হ্যাঙ্গারে শাড়ি ঝুলিয়ে রাখবেন না। শাড়িতে মরিচার দাগ লেগে যেতে পারে।
ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়ার থেকে ড্রাই ক্লিনিং করাই ভালো। বিকল্প হিসেবে শ্যাম্পু কিংবা শ্যাম্পু ও ডিটারজেন্টের মিশ্রণও ব্যবহার করতে পারেন।

সরাসরি সূর্যের আলোয় কখনও শাড়ি শুকাবেন না। রং নষ্ট হয়ে যাবে।

নেইল পলিশের দাগ তুলতে ব্যবহার করুন অ্যাসিটোন। তেলের দাগ তুলতে ধোয়ার আগে দাগের উপর ট্যালকম পাউডার ও সামান্য ডিটারজেন্ট ঘষে নিন।

ভারি নকশাকার শাড়ি ভালো রাখতে সবসময় শাড়ির উল্টো দিকটা বাইরের দিকে রেখে ভাঁজ করুন।

শাড়িতে সরাসরি সুগন্ধি ছড়াবেন না। স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে।

সবসময় হালকা থেকে মাঝারি তাপমাত্রায় শাড়ি ইস্ত্রি করুন। বেশি তাপ লাগলে ছাপ ছোপ দাগ পড়ে যাবে।

পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে শাড়ির আশপাশে ন্যাপথালিন বল না রেখে নিম পাতা ব্যবহার করুন।