মারকাজ নিজামুদ্দিন মসজিদে তাবলিগ জামাতের সমাবেশে অংশ নেয়া বড় একটা সংখ্যক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে সেটিকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন কেউ কেউ।
যারা ‘তাবলিগ ভাইরাস’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করছেন, তাদের ‘আরও বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন— প্রাকৃতিকভাবে আসা ভাইরাস একটা সময় শেষ হয়ে যায়, কিন্তু এ ধরনের বিদ্বেষ একটি ছাপ ফেলে রেখে যায় সমাজে।-খবর এনডিটিভি
কয়েক দফা টুইট পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, সর্বত্র মুসলমানদের কলঙ্কিত করতে কারও কারও জন্য এখন তাবলিগ জামাত সহজ অজুহাত হিসেবে সামনে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে, আমরাই কোভিড-১৯ সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে তা ছড়িয়ে দিয়েছি।
পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের সমাবেশের বিষয়ে তিনি লেখেন, প্রথম দর্শনে যদিও এটাই মনে হচ্ছে যে, এ ঘটনা তাবলিগ জামাতের দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপেরই ফল। তবে এটিও ঠিক যে, এই ধরনের সমাবেশ তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে ভারতের বেশিরভাগ মুসলমানই কিন্তু সরকারি নির্দেশিকাগুলো মানছেন এবং অন্যদের সেই নির্দেশ মেনে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন।
নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের মসজিদে যোগ দেওয়া ৯১ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ মিলেছে। এক থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এই মসজিদে প্রায় ২০০০ জন অংশ নিয়েছিলেন। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মায়ানমারের বাসিন্দারা। ধর্মীয় জমায়েতের উদ্যোক্তারা তথ্য গোপন করেছে বলে অভিযোগ।
নিজামুদ্দিনের এই ধর্মীয় জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরাও। তাদের খোঁজ করে করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে একাধিক জনকে। নিজামউদ্দিনের ৩৩০ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।