বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত আজ

1

সকাল থেকেই নরম রোদে লাখ লাখ মুসল্লি জিকির আজগার, ইবাদত বন্দেগিতে পার করেছেন ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন। রোববার সকাল ১১টার পর যে কোনো সময় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত পরিচালনা করবেন দিল্লির নিজাম উদ্দিন মার্কাজের মুরব্বি মাওলানা জামশেদ। এর আগে এ বছর ইজতেমার প্রথম পর্বে মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের।

শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় শেষে কিছু সময় জিকির আজগারের পর মঞ্চ থেকে শুরু হয় বয়ান। ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোরসালিন ইমান আমল আখলাখ ও ইসলামের পথে মেহনত করার গুরুত্ব নিয়ে বয়ান করেন।
এ সময় বাংলা ভাষার মূল বয়ানকে বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিক তরজমা করে শোনান মুফতি আজিম উদ্দিন। জোহরের নামাজের পর ইসলামে নারীর অধিকার, তাদের দায়িত্ব কর্তব্য ও হক নিয়ে বয়ান করেন দিল্লির রিয়াসাত। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা আবদুল্লাহ মনসুর। আসর ও মাগরিবের পর বয়ান করেন মাওলানা মোশাররফ ও আবদুস সাত্তার। যারা তাবলিগের কাজে বের হবেন, তাদের শনিবার তাশকিলের কামরায় জড়ো করা হয়েছে। তাশকিলের কামরা থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে তাবলিগের কাজে বের হয়ে যাবেন।

প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের মূল শামিয়ানা শুক্রবার জুমার আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে। শনিবারও সারা দিন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ময়দানে এসেছেন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়ার জন্য শত শত নারী আশপাশের মিল-কারখানা ও বাসা-বাড়ির ভেতর অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। তাদের আলাদা কোনো জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে পর্দায় ঘেরা বিভিন্ন স্থানে বসার জায়গা করে নিচ্ছেন। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের তাশকিল কামরার পাশে প্রতিবন্ধীদের ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রোববার ভোর থেকে মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, রোববার ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল থেকে আসা গাড়িগুলো ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আটকে দেওয়া হবে। সিলেট রুটের গাড়িগুলো মিরের বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়া থেকে আসা গাড়িগুলো কামারপাড়া ব্রিজের আগেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল শনিবার ইজতেমা ময়দানে আসে। গণমাধ্যম সমন্বয়কারী মো. সায়েম বলেন, মুশফিকুর রহিম তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বেশ সময় নিয়ে বয়ান শোনেন।

তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী আসরের নামাজের পর যৌতুকবিহীন ১০ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে ইজতেমা ময়দানে।