ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন সকালটা যেন রোমাঞ্চের ডালা সাজিয়ে বসেছে। প্রথম ঘণ্টায় ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভ স্মিথ ৬৫ রান তুলে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। কিন্তু শেষ এক ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে মিরপুরে এখন জয়টা খুব কাছেই দেখছে বাংলাদেশ।
২৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিন মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তুলে। জয়ের জন্য এখনো তাদের দরকার ৬৬ রান। আশা হয়ে আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি কি পারবেন টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে? বাংলাদেশের বোলাররা কি পারবেন অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানদের দ্রুত ফিরিয়ে দিতে?
দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়য়ে ঢাকা টেস্টের লাগাম টেনে ধরেছে বাংলাদেশ! এর পেছনে মূল কারিগর সাকিব আল হাসান। এখন পর্যন্ত ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ থেকে অজিদের প্রায় ছিটকে দিয়েছেন তিনি। ওয়ার্নার, স্মিথের পর তার শিকার হলেন অজি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড (১১)। এর আগে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন তাইজুল ইসলাম। তবে এখনও উইকেটে আছেন বিপজ্জনক ম্যাক্সওয়েল। জয়ের জন্য বাংলাদেশের চাই আর ৪টি উইকেট, আর অজিদের চাই ৭৩ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও জয়ের টার্গেটে বল হাতে ঝলসে উঠেছেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে দলকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিলেন তিনি। সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরানোর পর সাকিবের তৃতীয় শিকার হলেন অজি ক্যাপ্টেন স্টিভেন স্মিথ। মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দী হয়ে ফিরলেন ৩৭ রান করা অজি দলপতি। জয়ের জন্য ১৫৬ রানের টার্গেট নিয়ে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া।
সতর্ক শুরুর পর যথারীতি হাত খুলে মারতে থাকেন ডেভিড ওয়ার্নার। একসময় ১৫ চার ১ ছক্কায় ১২১ বলে তিন অংকে পৌঁছান তিনি। অজি সহ অধিনায়ককে ১১২ রানে এলবিডাব্লিউ করে দিনের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। এর আগেই তামিম ইকবালের কল্যাণে ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মত জীবন পান অধিনায়ক স্মিথ।
এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল অজিরা। ম্যাট রেনশকে (৫) এলবিডাব্লিউ করে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারেই উসমান খাজাকে (১) তাইজুলের তালুবন্দী করান সাকিব। তবে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নার বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন।