সুইসাইড নোটে স্মৃতি আলমকে দায়ী করে, আলম গ্রেফতার

0

কুমিল্লায় ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার অপমান সইতে না পেরে স্মৃতি আক্তার নামের এক কলেজছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে অবশেষে সেই বখাটে আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার(৩১ জুলাই) দুপুরে পুলিশ পৌরসভার পশ্চিমগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। লাকসাম থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ উদ্দিন বখাটে আলমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, বখাটে আলম কলেজছাত্রী স্মৃতিকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। প্রাথমিক তদন্তে তা প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্মৃতি (১৮) জেলার লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের দ্বাদশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্রী। আত্মহত্যার আগে ৫ পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোটে তার মৃত্যুর জন্য ওই আলমকে দায়ী করে যায়। আলম লাকসাম পৌর শহরের রাজঘাট (পশ্চিমগাঁও) এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। সে এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে স্মৃতি আক্তার গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ওইদিন স্মৃতির মা অহিদা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করেন। স্মৃতির পিতা বিল্লাল হোসেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় একটি হোটেলের কর্মচারী। কিন্তু স্মৃতিকে দাফনের পর শনিবার রাতে পরিবারের লোকজন স্মৃতির লিখে যাওয়া ৫ পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পান। ওই সুইসাইড নোটে স্মৃতি তার মৃত্যুর জন্য বখাটে আলমকে দায়ী করেন। পরে ওই সুইসাইড নোট পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্মৃতির এই সুইসাইড নোটের বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

স্মৃতির মা অহিদা বেগম জানান, আলম নামের ওই বখাটে প্রায়ই তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। এক সময় আলম তাকে হত্যা করার হুমকিও দেয়। বিষয়টি আলমের পরিবারকে জানানোর পর সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে স্মৃতির নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাতে শুরু করে। এক সময় স্মৃতির ছবি এডিট করে অশ্লীলভাবে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া স্মৃতির নামের ওই আইডি থেকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করতো আলম। স্মৃতি বিষয় গুলো জানার পর লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

স্মৃতির বাবা বিল্লাল হোসেন জানান, স্মৃতির ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে তা ফেসবুকে পোস্ট করার অপমানে সে গত কিছুদিন থেকে কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দেয়। আমারা কলেজ না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে কিছুই বলতো না, আলমের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, আমরা তার বিচার চাই।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.