আজ বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

0

আজ বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে জোরালো কোনো কর্মসূচি নেই। আগামী একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে দল গুছিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন- এ দুই প্রধান ইস্যু সামনে রেখে কঠোর আন্দোলনের দিকেই নজর দিচ্ছে বিএনপি। এ মুহূর্তে বিপর্যস্ততা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন পরিস্থিতিতে পালিত হবে দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এ দিনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। দলীয় কার্যালয়ে আজ ভোরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। দুপুর ২টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার কর্মসূচি রয়েছে।

এছাড়াও রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে। সারা দেশে সব ইউনিট বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতিও নিয়েছে দলটি। এ উপলক্ষে এক বাণীতে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ৪০ বছরের পুরনো একটি রাজনৈতিক দল। দলটির অতীত অনেক গৌরবের। দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছাড়াও বর্তমানে নতুন সংকট তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। এখন তাকে মুক্ত করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতিই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব কমাতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আর এসব করতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য বিএনপির ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ। এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে না পারলে বিএনপিকে দোষ দেবে জনগণ। এ কারণে দলের মহাসচিব দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার ফেরাতে বিএনপি কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একা এ অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে পারবে না। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাজাপ্রাপ্ত। তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। নাশকতা ও দুর্নীতির মামলার জালে দলের অগণিত নেতাকর্মী। নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়া-তারেকসহ অনেক শীর্ষ নেতার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। বারবার উদ্যোগ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি দলটি।

অন্যদিকে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে বেশ কয়েকদিন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে ছিল বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু দুই মাস ধরে চার দেয়ালের ভেতরেই সভা-সমাবেশ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। এমতাবস্থায় আবার সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ অবস্থায় করণীয় কী, তার সমাধান বের করতে দলের নীতিনির্ধারকরা প্রতি সপ্তাহে তিন-চারবার করে বৈঠকে বসছেন।

সূত্র জানায়, দাবি আদায়ে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু দেখছে না বিএনপি। এজন্য এখন দল গোছানোর পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলো নিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার চেষ্টাও করছে তারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, দল সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে- এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই তাদের। একটি মিছিল করলে পুলিশ দিয়ে পেটানো হয়। মিছিল ভেঙে দেয়া হয়। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। এভাবে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দল চলতে পারে না।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.