গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধা-৫ আসনে (সাঘাটা-ফুলছড়ি) বর্তমান সরকার দলীয় এম পি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটিস্পিকার সহ বি এন পি ও জাতীয় পার্টির ত্যাগি নেতারা মনোনয়নের জন্য উচ্চ মহলে জোড় লবিং সহ মাঠ পর্যায়ে তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়োমিত যোগাযোগ, ওঠাবসা এবং এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজের তদারকি, মিছিল মিটিং এ অংশ গ্রহন সহ গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ সময় তারা দূর্যোগপ্রবন ও অবহেলিত সাঘাটা-ফুলছড়ির উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি প্রদান এবং একে অপরের দুর্বল দিক সমূহ তুলে ধরছেন।
সাঘাটা-ফুলছড়ি -৫ আসনে হুসাইন মুহা. এরশাদের হাত ধরেই বর্তমান এমপি ডেপুটি স্পিকার এড. ফজলে রাব্বী মিয়া জাতীয় পার্টির ব্যানারে পর পর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তৎসময়ে দলীয় নেতাকর্মীরা এ্যাড. রাব্বীকে সাদরে গ্রহন পূর্বক বলেছিলেন, ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে এসেছে। ছাত্র জীবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তিনি অনুপ্রানীত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী বেগম রওশন এরশাদকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন। এড. ফজলে রাব্বী মিয়া সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন তিনিই পাবেন এমন প্রত্যাশা তার। তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন বলে তার সমর্থকরা জানান।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। তার যোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এখন অনেক সুসংগঠিত। বিগত দিনে নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালিত না করায় এসব নেতাকর্মী ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক মাহমুদ হাসান রিপন তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এ দুটি উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করেছেন।
ফলে মাহমুদ হাসান রিপনের নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে বিচ্ছিন্ন ও ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নব-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রায়ই সভা সমাবেশ করে চলছেন এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সফলতা এবং ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে মাহমুদ হাসান রিপনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত এবং সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী অবিভক্ত বাংলার কৃষিমন্ত্রী মরহুম আহমেদ হোসেন সরকারের (উকিল) নাতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক মাহবুবর রহমান নিটল তার পিতামহের আদর্শ লালন করে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাহবুবর রহমান নিটল বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ করে দুটি উপজেলাতে দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলায় পরিণত করার চেষ্টা চালাবেন।
এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা-৫ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন আহম্মেদ বলেন, এ আসনে বেগম রওশন এরশাদ এমপি থাকাকালীন ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবি নদী ভাঙনরোধে ব্যাপক কাজ করেছেন।
তার সময় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয়েছে। রওশন এরশাদ প্রার্থী হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে কোন কারণে তিনি নির্বাচন না করলে তার পরিবর্তে প্রার্থী হবেন সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।
তার যোগ্য নেতৃত্বে এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করার ফলে তিনি দুই-দুইবার সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ করে চলেছেন এবং জাতীয় পার্টির আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হলে এ দুটি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
স্বাধীনতার পরপরই একবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোস্তম আলী মোল্লা। তিনি অসুস্থতার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় পরবর্তীতে একজন যোগ্য প্রার্থী না থাকায় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় দলীয় বিপুল অংকের ভোট ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও বরাবরই এখানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা রাহিদুল ইসলাম তিনি বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনায় সহযোগিতাসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
রাহিদুল ইসলাম রাহী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়লাভ করা সম্ভব বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সমাজ সেবক নাজেমুল ইসলাম নয়ন। তিনি দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
গাইবান্ধা-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. একরাম হোসেন। চিকিৎসা সেবায় তার অবদান থাকায় তিনি এ দুটি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুপরিচিত এবং তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।
তবে বড় দু’টি দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। কে পাবেন দলীয় টিকেট। আর কে-বা বঞ্চিত হবেন। শুরুতেই দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে একক প্রার্থী সেলেকশন না করলে পরবর্তিতে ঘরের শক্র বিভীষনের রুপ নেবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।