সরকারি পাওনা আদায় না করে এ সংক্রান্ত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার কথা বলে সংসদীয় কমিটির অসন্তোষের মুখে পড়েছে আয়কর বিভাগ। রবিবার সংসদ ভবনে সরকারি হিসাব কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বার্ষিক অডিট রিপোর্টের (আয়কর) উপর আলোচনায় এই অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ওই অর্থবছরে টিএম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের আয়কর রিটার্নে আমদানি করা পণ্যের বিক্রির দেখায়নি। যার ফলে সরকারি কোষাগারে ১১ লাখ ১১ ৫৮৮ টাকা জমা পড়েনি বলে অডিট দপ্তর হিসাব দেয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে আয়কর বিভাগ। একাধিকবার টাকা আদায়ের নোটিস দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি টিএম ইন্টারন্যাশনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি পাওনা আদায় আইনে ২০১৪ সালে ‘সার্টিফিকেট’ মামলাও হয়।
জরিমানসহ ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে সবশেষে পাওনা দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯২১ টাকা। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও অডিট কর্তৃপক্ষ উভয়ই সার্টিফিকেট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।
সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে দেখা যায়, টিএম ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে মামলা করাকে কারণ দেখিয়ে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির গণ্য করতে বলে আয়কর বিভাগ।
সরকারি হিসাব কমিটি তা দেখে বলেছে, মামলার অজুহাত দিয়ে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম, আব্দুস শহীদ, মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, শামসুল হক টুকু ও মইন উদ্দীন খান বাদল অংশ নেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে আয়কর বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ আদায়ের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমিটিতে দেওয়ার সুপারিশ করে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আব্দুস শহীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কমিটি ওই বিষয়টি বিধি মোতাবেক সুরাহা করতে বলেছে। এখন মামলা করেই যদি বসে থাকা হয় তাহলে তো হবে না।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যে সব অডিট আপত্তিতে মামলা নেই সেগুলোর টাকা আদায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।