করোনায় আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

0

এবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই আসোলেশনে (বিচ্ছিন্নকরণ) গেছেন। বরিস জনসন নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টুইটারে বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তাই আমি স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ঘরে বসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাব।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি আজ শুক্রবার এ কথা জানায়। জনসন বিষয়টি নিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে খুব দ্রুতই করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ব্রিটেনে একদিনে আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৭৮ জনে। দেশটিতে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেলে নিয়ম মানছেন না অনেকে। লকডাউনে পুরো ব্রিটেন যেখানে স্থবির হয়ে আছে। কিন্তু সেখানে ব্রিটেনের বাংলাদেশি পাড়াখ্যাত এই হোয়াইট চ্যাপেলের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে লোকজন বাসা থেকে বের হচ্ছেন হরহামেশাই।

আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ১১ হাজার ৮১৬ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে ৫৮০ জন মারা গেছে।

এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, সারাবিশ্বে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮৩ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ১৫০ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২৬ জন।

এ মুহূর্তে সারাবিশ্বে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪১ জন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৩৫৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাকি ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় ১৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, সুস্থ হয়েছেন ৮৪ শতাংশ মানুষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে চীন-ইতালিকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৫২০ জন, যা গোটা বিশ্বের মধ্যেই সর্বোচ্চ। সেখানে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৭ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনও চিকিৎসাধীন ৮২ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ১১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে চীন। করোনার উৎস দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৩৪০ জন। মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৯২ জন।

করোনা মহামারিতে রীতিমতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৭১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২১৫ জনে। একদিনে নতুন আক্রান্ত ৬ হাজার ১৫৩ জন, মোট ভুক্তভোগী ৮০ হাজার ৫৮৯ জন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.