কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় দফা পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। টানা তিনদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরলা নদীর পানি রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৬৩ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বিপদসীমার ৭সে.মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের পাটেশ্বরী, মধ্যকুমরপুর ও নাগেশ্বরী পেট্রোল পাম্পসহ চার স্থানে মহাসড়কের উপর পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বিশেষ করে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফুলবাড়ির বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদে এখন থৈ থৈ পানি। এছাড়াও উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরিবাঁধের ২০ ফুট অংশ ভেঙে গিয়ে বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানি বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভেসে গেছে মৎস ঘের ও পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ। তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে হাঁস-মুরগীসহ জাগদেয়া পাট। বন্যায় ডুবে আছে কয়েক’শ একর জমির ফসল।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে মজুদ আছে ৩শ মে.টন চাল ৬লক্ষ টাকা। খুব তাড়াতাড়ি বন্যা কবলিত মানুষের কাছে বরাদ্দ দেয়া হবে। ঢাকায় ত্রাণ অধিদপ্তরে কথা হয়েছে পর্যায়ক্রমে চাহিদা মাফিক ত্রাণ সহায়তা আসবে।