বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ হাতে মেহেদির রং মুছতে না মুছতেই স্বামী, শ্বাশুড়ি ও দেবরের অমানবিক নির্যাতন ও খাবার স্যালাইনে বিষ প্রয়োগে গত ২৭ আগষ্ট মাতৃ- পিতৃহারা সন্ধ্যারানী রবিদাস (২২) নামে এক নববধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চল গাবগাছী চরের মৃতঃ সুখলাল রবিদাসের কন্যা ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং মিঠিপুর ইউনিয়নের গোবরা কুতুবপুর গ্রামের মৃতঃ তুলসী রবিদাসের ছেলে জিতেন রবিদাসের স্ত্রী। এ ব্যাপারে গত ২৮ আগষ্ট সন্ধ্যা রবিদাসের ভাই সূর্যলাল রবিদাস বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি ( ইউ ডি মামলা নং-১৮/১৭) মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ/১৭ মাসে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গাবগাছী চরের মৃতঃ সুখলাল রবিদাসের মেয়ে সন্ধ্যারানী রবিদাস (২২) এর সাথে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গোবরা কুতুবপুর গ্রামের মৃতঃ তুলসী রবিদাসের ছেলে জিতেন রবিদাসের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই জিতেন ঢাকায় একটি জুতার দোকানে কাজ করতো। বিয়ের পরে নিজ এলাকায় ব্যবসা করবে এমন প্রস্তাবে মেয়েপক্ষ পিতৃ-মাতৃহারা মেয়ের সুখের জন্য ছেলেকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা দেয়।
এর কিছু দিন যেতে না যেতেই জিতেন স্ত্রী সন্ধ্যার সোনার গহনা বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে জিতেন সন্ধ্যাকে রেখে আবারও ঢাকায় পারি দেয়। জিতেন ঢাকা থেকে ফোনালাপে মাঝে মধ্যেই স্ত্রী সন্ধ্যা ও তার পরিবারের নিকট আবারও একলক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্তু সন্ধ্যাদের পারিবারিক অবস্থা শোচনীয় হওয়ায় টাকা দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করে। এতে জিতেন ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পরিনাম ভাল হবে না বলে সন্ধ্যাকে প্রায় হুমকি ধামকি দেয়া হতো। যাহা মেয়ের পরিবার থেকে জানা যায়।
সন্ধ্যা রবিদাসের শ্বাশুড়ির দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়,ঘটনার দিন গত ২৭ আগষ্ট/১৭ ভোররাতে পুত্রবধূ সন্ধ্যারানী পাতলাপায়খানায় আক্রান্ত হলে তিনি বোতলে করে খাবার স্যালাইন এনে পান করান। এর কিছুক্ষন পরে সন্ধ্যারানী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে তিনি নিজ ঘর সংলগ্ন অন্য প্রতিবেশীকে সন্ধ্যার মৃত্যুর খবরটি জানান। কিন্তু শ্বাশুড়ি বা দেবর সন্ধ্যার বাবার বাড়িতে মৃত্যুর খবরটি না দেয়ায় প্রতিবেশী পলাশ নামে এক ব্যক্তি সন্ধ্যারানীর বড় ভাই রতন রবিদাসকে খবরটি জানান।
২৭ আগষ্ট সকালে সন্ধ্যারানীর বড় ভাই সূর্যলাল ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতঃ সন্ধ্যারানী ছাড়া কাওকে বাড়িতে উপস্থিত পাননি। তবে সন্ধ্যার স্বামী জিতেনের মোবাইল ফোনে ( ০১৭০১ ৮৬৪১৬১) একাধিকবার কল দিলেও সে ফোন রিসিভ করে নাই। এ ব্যাপারে ১২ নং মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যার বড় ভাই রতন রবিদাসকে ঘটনাটি মিমাংসা করার প্রস্তাব দেন। মেয়েপক্ষ এতে একমত না হলে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
চেয়ারম্যান এস এম ফারুকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, রোগীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে মুখে লালা ঝরা প্রসঙ্গে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন আপনারা থানায় যোগাযোগ করেন। তারাই সব বলবে, এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি না। প্রতিবেশি ও সন্ধ্যার পরিবারের পক্ষথেকে দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দাপটে কেউ মুখ খুলছে না। তবে ১/ যৌতুকের টাকা ২/ সোনার গহনা ৩/ শ্বাশুড়ি জলেশ্বরী রবিদাসের পরকীয়া জানা ও ৪/ স্বামী জিতেনের গোপন বিবাহ সন্ধ্যা রবিদাসের মৃত্যুর কারন হতে পারে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে। তবে সন্ধ্যা রবিদাসের ভাই সূর্যলাল বলেন, মা- বাবার আদর দিয়ে বোন সন্ধ্যাকে ছোট বেলা থেকে বড় করেছি। তাই কোন ভাবেই ওর অপমৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আর কোন বোনের অকালে যেন সিঁদুর মুছে না যায়। তাই ওর মৃত্যুর সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক এটাই চাই।