খালেদাকে কেন তার আইনজীবী নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি : প্রধানমন্ত্রী

0

সরকারের কাছে দলীয় নেত্রীর মুক্তির দাবি করায় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, খালেদা জিয়াকে তো আমি গ্রেফতার করিনি। তিনি দুর্নীতির জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতিমের টাকা চুরি করায় তাঁর সাজা হয়েছে। বিএনপির এত নামি-দামি ব্যারিস্টাররা কি করল? তারা কেন পারল না দলীয় নেত্রীকে মুক্ত করতে।

আজ রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা ১০ বছর ধরে চলে। ১৫৪ বার হাজিরা দেননি। বেগম জিয়াকে কেন তার আইনজীবী নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। এখানে আমাদের দোষ দিয়ে লাভ কি। তারা নির্বাচন করবে কী করবে না তা তাদের উপর নির্ভর করে। নির্বাচনের যাওয়া আসা তাদের ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেত্রীকে তো আমি গ্রেফতার করিনি, রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। সে গ্রেফতার হয়েছে এতিমের টাকা চুরি করে। কেস তো আরও আছে। তাদের আমলে আন্তর্জাতিকভাবে এমন অনেক ঘটনা আছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে হলে হয় কোর্ট থেকে, না হয় রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে। সে অনুসারে তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাই না প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংঘাত। ১১ লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে আছে। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নেয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু তারা যা বলে তারা করে না। তাদের ফেরত নিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপি বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। প্রশ্নই ওঠে না।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা (বিএনপি) যেটা চাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি- এটা তো কোর্টের মাধ্যমে আনতে হবে। আর দ্রুত চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে। এটাই আমাদের সিস্টেম। এই মামলায় আমাদের ওপর দোষ দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির এত নামি-দামি ব্যারিস্টার, তারা কেন পারলো না যে খালেদা জিয়া নির্দোষ। এখানে আমাদের কী দোষ? এখন বলছে নির্বাচন করবে না। নির্বাচন করবে কি করবে না, এটা একটা দলের বিষয়। এখানে কাউকে দাওয়াত দেয়া না দেয়া আমাদের বিষয় না।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা সরকার থেকে আরেকটা সরকারে যেতে যেন কোনো ফাঁক-ফোকর না থাকে। মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে গেলে সংসদ ভেঙে দিতে হয়।

সংসদ কিন্তু কখনো শেষ হয়ে যায়নি। যদি কোনো ইমার্জেন্সি দেখা দেয়, যদি কোনো যুদ্ধ দেখা দেয় তখন ওই পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই অনুপ্রেরণা থেকেই বিমসটেকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশা করি, আমাদের এ অগ্রযাত্রায় দেশের জনগণ ও গণমাধ্যম আমাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। আমরা যেন নেপাল-ভুটানের জল বিদ্যুৎ যৌথ উদ্যোগে ব্যবহার করতে পারি সে বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।
বিমসটেক সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) কাঠমান্ডুতে দুদিনের চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.