
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলায় এক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে ধর্ষন চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকট হতে গ্রাম্য শালিসে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে গ্রামের মাতাব্বররা। অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গোপনে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে ৪০ হাজার টাকা মামলার বাদিকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাকি টাকা মাতাব্বররা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসমাইলের পরিবার ও শালিসে উপস্থিত এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে মুদি দোকানদার ইসমাইল হোসেন গত ১ আগষ্ট গভীর রাতে প্রতিবন্ধি মেয়েটির ঘরে ডুকে তাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় তার বাড়ীর লোকজন টের পেলে ইসমাইল পালিয়ে যায়। পরদিন ওই কিশোরীর ভাই খাজাদুল ইসলাম ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে প্রতিবেশি মৃত আমীর আলীর ছেলে ইসমাইলকে একমাত্র আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। পরে গত ২ আগষ্ট দিবাগত রাত সাড়ে এগারটার দিকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে ইসমাইল কারাগারে রয়েছে।
এদিকে প্রভাবশালী ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মাতাব্বররা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য মামলার বাদিকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল দশটার দিকে স্থানীয় মৃত বনিজ উদ্দিনের বাড়ীর উঠানে ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল করিম সরকারের সভাপতিত্বে শালিসের আয়োজন করা হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন,বাদিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক আতোয়ার রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুছসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শালিসে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শালিসে উপস্থিত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য মাতাব্বরদের সাথে ইসমাইলের পরিবারের ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক ওই টাকা হাতে বুঝে নিয়ে মাতাব্বররা শালিসের আয়োজন করে।কিন্তু প্রতিবন্ধি কিশোরীর ভাই মামলার বাদিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ৪০ হাজার টাকা। এরমধ্যে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং বাকি ৩০ হাজার টাকা মাতাব্বর দেলোয়ার হোসেনের কাছে থাকবে। ইসমাইল হোসেন কারাগার থেকে মুক্তি পাবার পর সেই টাকা বাদি পাবে।
মামলার বাদি খাজাদুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা ৪০ হাজার টাকায় বিষয়টি আপোস-মিমাংসা করে দিয়েছেন।শালিসে দশহাজার টাকা আমার হাতে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দেলোয়ার মেম্বারের কাছে জমা আছে।ইসমাইলের জামিন হওয়ার পর সেই টাকা দেবে। শালিসের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দল করিম দাবি করেন,আমি শুরু থেকেই মিমাংসার বিপক্ষে ছিলাম। কারন ঘটনাটি শালিস অযোগ্য।কিন্তু সকালে যখন উভয়পক্ষ আমাকে ডাকতে আসে তখন আমি শালিসে উপস্থিত হই। তবে আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলেও শালিস নামায় আমি সই করিনি। তবে ৮০ হাজার টাকা চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
আরেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সাংবাদিদের বলেন,আমি শালিসের বিষয়ে আগে কিছু জানতাম না।সকালে আমাকে কুদ্দুছ ফোন করে তার বাড়ীতে ডাকেন।গিয়ে দেখি শালিস শেষের দিকে। শুনলাম শালিসে ইসমাইল হোসেনের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনিও বাকি ৪০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,ইসমাইলের পরিবারের সাথে ৮০ হাজার টাকা চুক্তির বিষয়টি সঠিক নয়।শালিসে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে অভিযুক্তের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এরমধ্যে খাজাদুল ইসলামকে নগদ দশহাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা আমার কাছে জমা আছে।ইসমাইলের জামিন হওয়ার পর মামলার বাদিকে বাকি টাকা দেওয়া হবে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাঁন মো.শাহরিয়ার মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এঘটনা শালিস অযোগ্য। মিমাংসার যোগ্য নয়। স্থানীয়রা বিষয়টি কোনভাবেই মিমাংসা করতে পারেন না।ফলে আদালত এসব ছোলেনামা বা মিমাংসা নামা গ্রহন করেন না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত চার্জশীট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হবে।