গোপালগঞ্জে স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে পার্কে ও রেস্টুরেন্টে শিক্ষার্থীদের বেপরোয়াভাবে চলাফেরা বেড়েই চলেছে

0

এম আরমা খান জয়, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ শহর ও জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও পার্কে বেহায়াপনাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজের ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ্এসব শিক্ষার্থীদের বেপরোয়াভাবে চলাফেরা বেড়েই চলেছে। পার্কে ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে জোড়ায় জোড়ায় স্কুল শিক্ষার্থীরা দৃষ্টিকটু ভাবে বসে সময় কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রতি খোঁজ-খবর নেয়া জরুরি। তাদের সন্তানরা ঠিকমতো প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কিনা বা সবগুলো ক্লাশে অংশ নিচ্ছে কিনা, তা প্রতিদিন খোঁজ নেয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বেপরোয়াভাবে শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ায়।

শুধু তাই নয়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী স্কুল ও কলেজ পোশাক পড়ে একসাথে বসে ধুমপানও করে। তারা প্রত্যেকেই ধুমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখনই এসব পথ থেকে ফিরিয়ে না আনা গেলে তাদের আর পড়াশুনায় মনোযোগী করা যাবে না। আর এই চিত্র খুব সহজে দেখা মিলে গোপালগঞ্জ শহরের বিনোদনের স্থান গোপালগঞ্জ লেক পার্ক ও শিশু পার্কে । দেখার যেন কেউই নেই।

মা-বাবা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে। ভাবেন সন্তান মানুষ হচ্ছে। কিন্তু মা-বাবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা সময় কাটায় বিভিন্ন পার্কে। যেন সেই স্কুল-কলেজ ফাঁকির উৎকৃষ্ট স্থানে পরিণত হয়েছে। ঘড়ির কাটায় সময়টা তখন সকাল ১১টা ১৫ মিনিট।
স্কুল বা কলেজের ক্লাস চলাকালীন এই সময়টায় গোপালগঞ্জ লেক পার্ক, শিশু পার্কে গিয়ে দেখা গেল কোথাও জোড়ায় জোড়ায় আবার কোথাও দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা। গায়ে স্কুলের ইউনির্ফম আর সাথে বইয়ের ব্যাগ। পার্কে আগত তরুণ-তরুণীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা শহরের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।

পার্কে অড্ডারত এক শিক্ষার্থী তানিমের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, এটা ভাল না, তবে মন ভাল নেই তাই এখানে বেড়াতে আসছি। অন্য এক শিক্ষার্থী বলে, মা-বাবা জানলে কষ্ট পাবে, তবে পার্কে আসতে ভাল লাগে।
শিক্ষার্থীরা নিত্যদিন স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছে না। ঝুঁকে পড়ছে নানান অসামাজিক ও অশ্লীলতা কর্মকান্ডে । এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে সাধারণ দর্শনার্থীরাও।

এই বিষয়ে অভিভাবকরা বলেন, মা-বাবাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্ময়ে ছেলে-মেয়েদেরকে সচেতন করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা হয় শহরের একটি স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের সাথে, তিনি জানান, স্কুল চলাকালে কোন ছাত্র বা ছাত্রী পার্কে কিংবা কোথাও ঘুরাফেরা করা উচিত না। তাছাড়া এ বিষয়ে শিক্ষকদের পাশাপাশি অবশ্যই অবিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি হচ্ছে প্রশাসনের তদারকিতে যে করেই হোক বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ছেলে মেয়েরা যেন পার্কে গিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করে লেখাপড়া ধ্বংস করে বাজে পথে না যেতে পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.