বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ স্বরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় বন্যার কবলে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাবাসী।এ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে উপজেলার ১লাখ ২০হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগ ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যে ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার চেয়ে ২০১৭ সালের এই বন্যা বেশী ভায়াবহ কারণ এবারের বন্যায় করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়ে বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার বেশী উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৮৮ সালে করতোয়া নদীর পানি ২০.৭৬ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। যা বিপদ সীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপরে পানির প্রবাহছিল।
শনিবার ১৯ (আগষ্ট)সকাল ৬টায় করতোয়ার কাটাখালি পয়েন্টে পানি ২০.৯০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যাহা বিপদ সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহ।
শনিবার (১৯ আগষ্ট)গোবিন্দগঞ্জে বন্যার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত করতোয়া নদীর পানি কাটাখারী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই বৃদ্ধি ধারা অব্যাহত থাকে পারে বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত,তালুক কানুপুর, ফুলবাড়ী, হরিরামপুর(নাকাই হাট), রাখালবুরুজ, সাপমারা, শালমারা, কামারদহ, গুমানীগন্জ ও মহিমাগন্জ সহ ১০ টি ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গত ১৭/০৮/১৭ রাত আনুমানিক ১:২০মিনিটে মহিমাগন্জ বাঙালী নদীর তীরে বালুয়া পয়েন্টে বাধ ভেঙে নতুন করে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।গোবিন্দগঞ্জ শহরের কিছু অংশে পানি প্রবেশ করেছে এবং বাজারেও পানি ঢোকার আশংখা।গোবিন্দগঞ্জ বাজারেও গোবিন্দগঞ্জ শহরের ঝিলপাড়া হয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে সেখানে (ঝিলপাড়া পয়েন্টে) বালি ভর্তি বস্তা দিয়ে পানি দমন করার চেষ্টা চলছে।
গোবিন্দগন্জ পশ্চিম চৌমাথা, জমি রেজিস্টারি অফিস এলাকা ও গোবিন্দগঞ্জ বিএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
গোবিন্দগঞ্জে আগ্রাসী বন্যার পানি উঠায় ৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সাথে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু তারেক মোঃ রওনাক আকতার জানান, উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।
এতে শ্রেণি কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সর্ম্পূন করা সম্ভব হচ্ছে না। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আরো বিদ্যালয়ে পানি উঠতে পারে। জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আজ শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষা পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। পৌর শহরের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ছোট দূর্গাপুর, বিশ্বনাথপুরে করতোয়া নদীর বাধ ভেঙ্গে দরবস্ত ইউনিয়নের ৭/৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা বাধ ভেঙ্গে গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের হাতিয়াদহ পয়েন্টে প্রায় ৪০ ফিট অংশ ভেঙে যায়।বাঁধ ভাঙায় শুধু ২৫ গ্রাম প্লাবিত নয়, ধসে গেছে গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুরের একটি কাঁচা রাস্তা। এতে করে উপজেলা শহর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাঁচ গ্রামের মানুষ। এতে করে বানভাসী মানুষগুলোর শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিছে গরুছাগল নিয়ে অনাহারে চরম ভোগান্তি পোয়াচ্ছে এ বানভাসি মানুষগুলো।
এমনো এলাকা আছে যেখানে ত্রাণতো দূরে থাক আদো কেউ খোজ নিতেও যায়নি।তবে সরকারের পক্ষ থেকে বানভাসীদের জন্য ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।সরকারি ভাবে গোবিন্দগঞ্জে ৪টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। বিশুবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, গোলাপবাগ আলিম মাদরাসা, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ, গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এই চারটি সরকারি বন্যা দুর্গতদের আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম ৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিশিষ্টজনরা বলছে বানভাসীদের এ দূর্যোগ মহূর্তে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে এছাড়া বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোবিন্দগন্জ-দিনাজপুর মহাসড়ক (কাইয়াগন্জ,কামারপাড়া পয়েন্টে) উপচিয়ে প্রবল বেগে পানি পারাপার হওয়ায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যেকোন সময় গোবিন্দগঞ্জ -দিনাজপুর মহাসড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। বর্তমানে এ মহাসড়কে ভারী যানবহন চলাচল নিষিদ্ধ।
সেই সাথে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের চতুর্দিকে কোমর পরিমাণ পানি এতে রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোয়াচ্ছে।