আরিফুল ইসলাম সুজন, চিলমারী: আজ মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদ সীমার ৮৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ইতো মধ্যে উপজেলার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সদ্য রোপনকৃত রোপা আমন ধান, বীজতলা ও শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।বন্যার পানি পুকুরে ঢুকে পড়ায় মৎস্য চাষীরা মারাত্নক ক্ষতির সম্মখিন হয়েছেন। সরকারীভাবে যে পরিমাণ ত্রাণ বন্যার্তদের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বানভাসী মানুষেরা গবাদী পশু ও পরিবার পরিজন নিয়ে ওয়াবদা বাধ সহ বিভিন্ন রাস্তায় এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিটি মূহুর্তে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করছে। সাধারণ মানুষের আশংকা এবারের বন্যা ৮৮’র সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ৯৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় স্কুলগুলিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকি স্কুলগুলোতে বানভাসী মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসাসহ ৮টি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও ৫টি স্কুল ও ওয়াবদা বাধ।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ যাবৎ ৪৮০০ হেক্টর সদ্য রোপনকৃত রোপা আমন ধান, ১৭৬ হেক্টর বীজ তলা, ২১০ হেক্টর শাকসবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে ৮০০টি পুকুর ও ১৬ টি বড়পীট তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মৎস্য চাষীরা।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের স্ব স্ব ইউনিয়নে যে পরিমাণ ত্রাণের প্রয়োজন সে পরিমাণ ত্রাণ তারা দিতে পাচ্ছে না। যার কারণে তারা সামান্য ত্রাণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। সরকারী ভাবে যে পরিমাণ ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রত্যুল।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মুরাদ হাসান বেগ এর মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, ত্রাণ অপ্রত্যুল একথাটি সঠিক নয়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা যা পাচ্ছি সাথে সাথে তা বানভাসীদের মাঝে বিতরণ করছি। ত্রাণ নিয়ে কোন সমস্যা নেই।