“জমজমাট মৌসুমি ব্যবসা”

0

আফশানা ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : শীত আসলেই ফুটপাতগুলোতে দেখা মেলে নারী পিঠা ব্যবসায়ীদের। অল্প পুঁজি দিয়ে ঋতু কে কেন্দ্র করে যে সকল ব্যবসা করা হয় তাকে মোসুমি ব্যবসা বলে।

জমজমাট ব্যবসা হয় পবিত্র দুই ঈদে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজার সময়। ব্যবসায়ীদের ‘ব্যবসা’র সময় হচ্ছে এ তিনটি বড় উৎসব তবে সাধারণভাবে কৃষি সমাজে শীতকাল হচ্ছে অনেকটা কম কাজের সময়। এ সময় দিন ছোট, রাত বড়-কাজের সময়ই কম। এ ছাড়া কৃষিকাজের ধুম থাকে কম। বড় বড় ফসল তখন উঠে যায়। হয় সবজি চাষ, মাছ চাষ। আর হয় রবিশস্য ফলন। এসব আমাদের দেশে অনেকটা অপ্রধান কৃষিকাজ, যদিও এমন ধারণায় পরিবর্তন আসছে। এই শীতকাল হচ্ছে নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও মধ্য ফেব্রুয়ারি। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। ছয় ঋতুর পঞ্চম ঋতু শীতকাল। কাজ কম থাকাতে শহরে পাড়ি জমাই। শীতকে কেন্দ্র করে গঠন করে মৌসুমি ব্যবসা।পিঠা তৈরিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেয় অনেক খেটে খাওয়া দরিদ্র নারীরা-পুরুষ। তাছাড়া পিঠা তৈরীর সরঞ্জামের দাম অনেক কম হওয়াতে সহজে এই ব্যবসা করে অনেকে। তাই পিঠা কারীগর নারীরা-পুরুষ শীত মৌসূম এলেই পিঠা তৈরির কাজে লেগে যান। অনেক জায়গায় দেখা যায় ক্রেতারা পিঠার সাথে ফ্রি পাওয়া যায় অনেক রকম ভর্তা। সর্ষে ভর্তা, শুটকি ভর্তা ও মরিচ ভর্তা এদের মাঝে অন্যতম। ফুটপাতেই তারা চুলার পাশে বসে পিঠা তৈরি করেন। পিঠা বিক্রি করে তারা আর্থিক ভাবে কেমন লাভবান হচ্ছেন এমন কথা জিজ্ঞাসা করতে সাঙ্গু চট্টগ্রাম, নন্দনকানন রোডের নিউ মার্কেটের ছালমা বেগম (৪৫) নামক এক নারী পিঠা ব্যবসায়ী জানান, তার বাসা দেয়ানহাট এলাকায়। প্রতিদিন তিনি পিঠা বানাতে নিউ মার্কেট সামনে পিঠা তৈরির সরঞ্জামাদি নিয়ে বসেন। তার কাছে প্রশ্ন করতেই উঠে আসে জীবিকা হিসেবে নেওয়া পিঠা তৈরির দৈনন্দিন জীবন। ভাপা পিঠা বিক্রি করেন তিনি। পিঠার দাম জানতে চাইলে তিনি জানান-ভাপা পিঠা ১০ টাকা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তার পিঠা বিক্রি। মৌসুমি এই নারী পিঠা ব্যবসায়ীরা শুধু শীত কালেই এই ব্যবসা করেন।

তবে অন্য ঋতুতে তাদের কাজ কী? জানতে চাইলে আরেক নারী পিঠা ব্যবসায়ী রূপ বানু বলেন, ‘যখন যা পাই তাই করি। তবে শীতের সময়ই শুধু পিঠা বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। সারাদিন অনেক মানুষকে পিঠা বানিয়ে খাওয়ালেও তিনি তার নিজের পরিবারকে কখনও পিঠা বানিয়ে খাইয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিক্রি না হওয়া বাড়তি ঠান্ডা পিঠাগুলো আমরা খাই। বিক্রি শেষে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পিঠা বেচে যায়। সেগুলো রাতের খাবার হিসেবে খাই।
আন্দরকিল্লা জুমা মসজিদ রোডের ফুটপাতে বসে পিঠা বিক্রয় করেন মোহাম্মদ সাগর ইসলাম (২৬) নামে আরেক পুরুষ পিঠা ব্যবসায়ী তিনি পিঠা তৈরী করে পরিবারের সবার দায়িত্ব নিয়েছেন। তার সাথে কথা বললে তিনি জানায়, তার বাড়ি কুরিগ্রাম তিনি শীতকালে চট্টগ্রাম শহরে মৌসুমি ব্যবসার জন্য আসেছে, শীত শেষ হলে গ্রামে ফিরে যান এইখানে তিনি একটি দোকানের দিন মজুর এর সাথে থাকে, তিনি প্রতি বছর আসেন মৌসুমি ব্যবসা করতে। তিনি ভাপা পিঠা তৈরি করেন। সবার মতো দাম ১০ টাকা। চকবাজার মোরে দেখা মিলে বউ -জামাই পিঠা মেলা নামের একটি দোকান, তারদের সাথে কথা বলতেই জানা যাই স্বামী-স্ত্রী দূজনে দূপুরের পর বসে পড়েন ফুটপাতে ভাপা -চিতল পিঠা তৈরী এবং বিক্রয় করতে। রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে তাদের ব্যবসা। তিনি জানান শীত সিজেনে পিঠা বিক্রি করে যা আয় হয় তার ওপর নির্ভর করে এ সময় আমাদের চলতে হয়। তার স্বামী শফিকুল জানান, পিঠা তৈরির কাঁচামালের খরচ বেশি না হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি। শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসাতে হলে চাঁদা দিতে হয় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন না এসবের সম্মূখীন কোনদিন হননি। তবে পিঠা বিক্রি করে সঞ্চয় করা যদিও খুব একটা সহজ নয় তারপরও জানতে চাইলাম কোনো সঞ্চয় হয় কিনা? নারগিস বেগম হেসে বললো সঞ্চয় অনেক দূরের ব্যাপার। এই টাকা দিয়ে সংসারের কিছুটা খরচ সাশ্রয় পায় তাঁর পরিবার। এই হচ্ছে খেটে খাওয়া নারী এবং পুরুষের দৈনন্দিন জীবন। অনেক কষ্ট করার পরও আমরা কোন সময় বসে থাকি না। কিছু না কিছু আমাদের উপার্জন করতেই হয়।
এই মৌসুমি ব্যবসাকে কেন্দ্র কেরে চলছে অনেকের পরিবার, অনেকের স্বপ্ন।
যারা বাঁচার আশায় যুদ্ধ করে, তারাই জীবন জয় করে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.