ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে পানি

0

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : জেলায় কমেছে বন্যার পানি। আস্তে আস্তে পানি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ। বানভাসী এলাকায় অনেক ঘরবাড়িতে এখনো পচা কাঁদা পানি জমে আছে। সেখানে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি এবং পূর্ণবাসনের জন্য নগদ অর্থ সংকট। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক তদারকি ও বন্যার্ত এলাকায় সার্বক্ষনিক মেডিক্যাল টিম নিয়জিত থাকায় হয়নি কোন রোগের মহামারি বা প্রাণহানি।

জানা যায়, এবারের বন্যায় জেলার প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী ৬৫টি কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। অনেক এলাকায় আস্তে আস্তে পানি নামতে শুরু করায় বের হয়ে এসেছে ভাঙ্গা ঘরবাড়ির ধ্বংশ স্তুপ ও ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তাঘাট। এরসাথে বেড়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও পূর্ণবাসনের জন্য নগদ অর্থ সংকট। গবাদিপশু’র খাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা এলজিইডি জানিয়েছে এবারের বন্যায় ৬৬ কি, মি পাকা ও ২২০ কি,মি কাঁচা রাস্তা, ২২ টি বড় ব্রীজ ও কমপক্ষে ৮৬ টি কার্লবার্ড ব্রীজসহ সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে সিভিল সার্জনের নির্দেশে আগে থেকেই মেডিক্যাল টিম বিশেষ ভাবে তৎপর থাকায় পানি কমে যাওয়ায় এবার বানভাসী মানুষের মাঝে দেখা যায়নি জ্বর-সর্দি, আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব।

সিভিল সার্জন ডা. আবু মো: খয়রুল কবির জানান, বানভাসীদের সেবা দিতে ৬৫টি স্বাস্থ্য ক্যাম্প দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষনিক নিয়জিত থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বন্যার্তদের সহায়তায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ টাকা, ২শ’ ২০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার প্যাকেট (চিড়া, গুড়, মুড়ি, বিস্কুট) শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের পূর্ণবাসনের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে এলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ পানিবন্দী মানুষ।

 

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.