আব্দুল মজিদ, রিপোর্টার ঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শুরু করে প্রধান ফটক পূর্ব গেইট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের উপর ভ্যানগাড়ি ও হকারদের ভাসমান দোকান সৃষ্টি করছে তীব্র যানযট। এতে প্রতিনিয়ত রোগী, পথচারী ও রোগীর বাহন নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। অবৈধ ভাসমান হকারদের দুর্ভোগে রোগীর স্বজনরা কিছু বললে আরো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অবৈদ চাঁদা দেওয়া হকাররা।
সরেজমিন দেখা যায়, অবৈধ হকারদের বেচাকেনা এবং পশ্চিম গেটের কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এ্যাম্বুলেন্স, রোগীদের গাড়ি ও অবৈধ পার্কিং দখল করে রেখেছে সড়ক। হাসপাতালের প্রবেশেই সড়কের ওপর এসব দোকানপাট রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও যানবাহন প্রবেশে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আসমা বেগম বলেন, হাসপাতালের সামনে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। আমরা কীভাবে হাঁটব আর রোগীর যানবাহনই চলবে কিভাবে। হাসপাতালে চিকিৎসা এক গর্ভবতী নারীর স্বামী মনির বলেন, আমার স্ত্রীকে জরুরিভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে হাটহাজারী থেকে নিয়ে এসেছি। মহাসড়কে সমস্যা না হলেও হাসপাতালে ঢুকতেই যানজটের সমস্যায় পড়ি। এভাবে চললে কাকে বলবো। প্রশাসনকি তা দেখেনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এর নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, স্থানীয় থানা পুলিশ। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর প্রতিনিধির মাধ্যমে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা নেন তারা। যার ফলে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত হচ্ছে না। এদের উচ্ছেদ করা হলেও আবার বসে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, আমরা প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে চাদা দিই দুলাল নামক এক ব্যাক্তিকে। অর্ধশত দোকান থেকে দৈনিক ১৩০ টাকা করো আদায় করলে দৈনিক উঠে ৬৫০০ টাকা। শুধু মাসেই মাসিক এই টাকার অংক দাড়ায় ১,৯৫,০০০ টাকা। যা বছরে দাড়ায় ২৩,৪০,০০০/-। নিরবেই ঘটছে এই চাঁদাবাজি। যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।