দারুস সালামে ‘জঙ্গি আস্তানার’ বাড়ির মালিকসহ গ্রেপ্তার ২

0

মিরপুরের দারুস সালামের জঙ্গি অভিযানে নিয়মিত মামলায় বাড়িওয়ালা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ ও নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান শুরুর কিছুক্ষণ পরই বাড়িওয়ালা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ ও নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে আজ দারুস সালামের বর্ধন বাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানায় চতুর্থ দিনের অভিযান শুরু করে র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তাদের কাজ শুরু করেছে। গতকাল একটি ঘর থেকে কাগজে মোড়ানো ৯-১০টি আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরক আছে কি না তা তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে। সোমবার মধ্যরাতে বর্ধন বাড়ি এলাকার ২/৩/বি কমলপ্রভা নামের বাড়িটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব। এরপর ওই বাসার পঞ্চম তলা থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি আব্দুল্লাহ।

পরদিন সকালে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। তখন থেকে জঙ্গিকে আত্মসমর্পণের জন্য অনুরোধ করলে জঙ্গি আব্দুল্লাহ রাজি হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনাস্থলে ওই বাড়ির ভেতরে ছয়টি শক্তিশালী বোমা পাওয়া গেছে। কার্টুনে মোড়ানো আইইডি (হাতে তৈরি বোমা) পাওয়া গেছে। সেগুলো নিয়ে কাজ করছে র‍্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। অভিযান এখনো চলছে বলেও তিনি জানান। বাড়ির কাছের ৫০০ গজ দূরে র‍্যাবের ব্যারিকেড বসানো আছে।

কিন্তু কালক্ষেপণ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি আব্দুল্লাহ। এতে সৃষ্টি হওয়া অগ্নিকাণ্ডে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বুধবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করে বিকেল নাগাদ পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া সাতটি মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। বিকেলে পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে প্রায় ১০টি অবিস্ফোরিত আইইডি উদ্ধার করা হয় এবং সন্ধ্যায় তৃতীয় দিনের অভিযান স্থগিত করা হয়। র‌্যাব জানায়, ৭টি মরদেহের মধ্যে জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও অজ্ঞাত দুই সহযোগী রয়েছেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.