গতকাল সোমবার রাতে জেলা শহরের উপকণ্ঠ বাঙ্গীবেচা ঘাটে পুনর্ভবা নদীতে ডুবে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর (১০) মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দিনাজপুরে প্রবল বন্যায় এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ জনে।
এদিকে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে হুমায়ুন (১৫) নামে এক কিশোর। জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে শহরের টার্মিনাল-রাজবাড়ি সড়কে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। এ ছাড়াও গতকাল সোমবার দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থিত কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নিহত সেই পাঁচজন হলেন জেলা শহরের শষ্টিতলা এলাকার জনির ছেলে আশিক (৮), নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের পূর্ব জয়দেবপুর গ্রামের মৃত খেরখেরার ছেলে জনাব আলী (৫৫), কুশদহ ইউনিয়নের কুশদহ গ্রামের মতিয়ার রহমান (৫৭) এবং বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের রাঙ্গালীপাড়া গ্রামের মো. রমজান আলীর ছেলে আমির হামজা (৫) ও একই এলাকার মনতাজুরের ছেলে মো. আমানুল্লাহ (১০)
নিখোঁজ হুমায়ুন শহরের মির্জাপুর বিআরটিসি বাস ডিপোর মেকানিক ও সুইহারী খালপাড়া এলাকার চা দোকানী মো. আজাদ হোসেনের ছেলে।
আজাদ হোসেন জানান, রবিবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে রাজাবাড়িতে বন্যাকবলিত এলাকা দেখতে যায় হুমায়ুন। ফেরার পথে বাস টার্মিনালের পেছনে পা পিছলে বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অনেকে পানিতে তার সন্ধান করেছেন। তার ধারণা, হুমায়ুন আর জীবিত নেই। তবে অন্তত ছেলের মরদেহটি হলেও পেতে চান তিনি। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি দিনাজপুরেও বন্যা-দুর্গতদের সাহায্যে কাজ করছে সেনাবাহিনী।