
ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) থেকে: নওগাঁর পত্নীতলায় আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় কুড়িটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কৃষিজ ফসল ডুবে গেছে ও ঘর-বাড়ি গুলো পানি বন্দী হয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখে, স্থানীয় সুত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন এলাকার পূর্ব বাঁধ ভেঙ্গে যায়। গত ৫ দিন ধরে ভারত থেকে প্রবল বেগে আত্রাই নদী বেড়ে যায়। এতে উপজেলার খাদ্য গোডাউন পাড়ায় গত শনিবার নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে প্রথমে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁধটি ভাঙনরোধে রক্ষাা পায় ও পরে সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাঁধটি পুনরায় মেরামত করা হয়। গত রোববার সন্ধায় উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকার নদী তীরবর্তী বাঁধ একটি ভাঙ্গে। ওই রাতে কোন সময় এর আশে পাশের এলাকায় আরো ৪টি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে ওই এলাকার বিষ্টপুর ও ডাঙ্গা পাড়াসহ কয়েকটি মাঠের কৃষিজ ফসল ডুবে যায়। চকমূলি হালদারপাড়ায়সহ আশে পাশের মাটির বাড়ি ঘরের ভিতরে পানি ঢুকে যায়।
পরে সোমবার রাত হতে নজিপুর-সাপাহার আঞ্চলিক মহাসড়কের কঞ্চিপুকুর এলাকায় সড়কে পাকা রাস্তার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে ওই এলাকার বাঁধের তীরবর্তী ও উচুঁ স্থানে অস্থায়ী টিন দিয়ে ঘর তৈরি করে রাত্রি যাপন করছেন মানুষেরা ও গবাদি পশু-পাখি। এছাড়া নদী তীর বর্তী নজিপুর পৌর এলাকার পলিপাড়া, চাঁনপুর ও নজিপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন, কাঁটাবাড়ি, ফহিমপুর এলাকার প্রায় চার শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়েছেন। এতে দিন মজুর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি পেশার আয়ের পরিবার গুলোতে বর্তমানে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এমন অবস্থায় নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দিন তাঁর এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল মালেকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ধামইরহাট উপজেলার ভগবানপুর এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় কৃঞ্চপুর এলাকায় পনি প্রবেশ করছে। তা রক্ষায় আমরা সজাগ রয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী আনোয়ার হোসেন জানান, কতটি বাঁধ ভেঙ্গেছে তা আমার জানা নেই। তবে, আমার লোক জনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছি ও তা মেরামতের ব্যবস্থা করা হইবে।