নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ নামধারীরা। এসময় বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো: বেলাল হোসেনকে শারীরিক লাঞ্চিত করা হয়। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। বর্তমান কলেজ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আটকৃকতরা হলেন, শহরের বিহারী কলোনি মল্লার সিরাজের ছেলে ও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ হোসেন, ডিগ্রী মোড় এলাকার আমিরের ছেলে স্বপন, আফজাল হোসেনের ছেলে রনি ও রেজাউল হোসেনে ছেলে রেদওয়ান। এদের সবার বয়স ২৫-২৮ বছরের মধ্যে।
কলেজের বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টা থেকে কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় তলায় বদলি জনিত কারণে সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল্লাহকে বিদায় এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো: বেল্লাল হোসেনের বরণ অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক, উপাধ্যক্ষ ড. মো: মোস্তাফিজার সহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠান শেষের দিকে রিয়াজ হোসেন, স্বপন, রনি ও রেদওয়ান সহ ১০/১৫ জন ছাত্রলীগ নামধারী ছাত্ররা এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ফুলের টব, বেঞ্চসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।
এসময় প্রফেসর ড. মো: বেলাল হোসেনকে জামার কলার ধরে মারপিট করা হয়। এছাড়া অন্যান্য শিক্ষকরাও আহত হয়। এসময় বাংলা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী (বর্তমান পরীক্ষার্থী) এবং রোভার স্কাউটের জেলা সিনিয়ির রোভার প্রতিনিধি আরমান হোসেনকে ছাত্র শিবির আখ্যায়িত করে বেদম মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে চারজন ছাত্রলীগ নামধারীকে আটক করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল লিমন রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রফেসর ড. মো: বেলাল হোসেন বলেন, কলেজের বাংলা বিভাগে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগেও তারা আমার কাছে একটি অনুষ্ঠানের নাম করে চাঁদা চেয়েছিল। তাদেরকে চাঁদা দেয়নি। এছাড়া আমাদের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাদের জানানো হয়নি কেন। এসব বিষয় নিয়ে তারা আমাকে মারপিট করে ও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক বলেন, তারা ছাত্রলীগ করে বলে আমি শুনেছি। ছাত্রলীগরা যেখানে দেশে সুনাম ছড়াচ্ছে। আর এখানে একজন শিক্ষকের গায়ে ছাত্রলীগরা হাত উঠিয়েছে। এরপর আর কি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কলেজে পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। দূর্বত্তদের হাতে কলেজ থাকতে পারেনা। আমরা এটাকে মুক্ত করতে চাই। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক বিমান কুমার রায় বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি নাই। তবে তারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙাতে পারে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, কলেজ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।