জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাদকের কালগ্রাসে যুব সমাজ। নাগরপুর উপজেলার গ্রামগঞ্জে, রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে জীবননাষী মাদক। উপজেলার এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী এই ব্যবসা করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে হচ্ছে কলাগাছ। আর ধ্বংস হচ্ছে এলাকার যুব সমাজ। মাদক সেবিদের মধ্যে ১৪ হতে ২৫ বছর বয়সী যুবকের সংখ্যাই বেশি। আর এদের মধ্যে বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের ছাত্র।
এছাড়া বাসের ড্রাইভার, হেলপার, রিক্সা ও ভ্যান ড্রাইভারও রক্ষা পাচ্ছেনা মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে। এসব কারনে গাড়ী দূর্ঘটনাসহ এলাকায় বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। নাগরপুর থানা পুলিশের দুঃসাহসীক অভিযানে কিছুদিন মাদক ব্যবসায়ীগণ গাঁ-ঢাকা দিলেও বর্তমানে এরা আবারও সক্রীয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ এদেরকে গ্রেফতার করে মাদক মামলায় কোর্টে চালান করলেও আইনের ফাঁকে এরা অল্প দিনে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও শুরু করে মাদক ব্যবসা। এদের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছে ৭-৮ বছরের শিশু ও দরিদ্র মহিলাদের। এদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা ও এক স্থান হতে অন্যস্থানে মাদক পাঁচার করে থাকে বলে জানা যায়।
বর্তমানে মাদকের প্রধান চালান আসে চৌহালী ও আরিচা থেকে। মাদক ব্যবসায়ীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ভায়া বরংগাইল হয়ে রাতের যেকোন সময় অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাদকের প্রধান চালান নাগরপুরে আনে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
উপজেলার মাদকের প্রধান স্পটগুলো হচ্ছে সলিমাবাদ বাজার ব্রীজ এলাকা, ঘূণিপাড়া মসজিদ এলাকা, তেবাড়ীয়া বাজার, কাঁচপাই রাস্তার মোড়, মাগুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, ধুবড়িয়া পাকা রাস্তার মোড়, বলারামপুর ডিজিটাল বাজার, চকগদাধর নয়ান মার্কেট, ধুবড়িয়া বাসষ্ট্যান্ড, ধুবড়িয়া মহাসড়ক হতে আলিয়া মাদ্রাসা রোড, চাষাভাদ্রা ঋষিবাড়ী মোড় ও তিরছা বটতলা উল্লেখযোগ্য।
মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, গাজা ও ফেনসিডিল। মাদকের এই ভয়াবহ ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে উক্ত স্পটগুলোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি ও সক্রীয় ভুমিকা পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এলাকাবাসী।