নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে অচলাবস্থা ভারতে

0

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতের আসাম, মেঘালয় রাজ্যের পাশাপাশি উত্তাল পশ্চিমবঙ্গও। আসামে নিহত হয়েছে ৩ জন। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে একজন তেলবাহী লরী ড্রাইভার। বিক্ষোভকারিরা লরিতে আগুন দিলে তিনি প্রাণ হারান। অন্য দুজন কিভাবে মারা গেছেন তা এখনো জানা যায়নি। পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি ট্রেনসহ ১৫টি বাসে। আসামে এখনও বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।

এদিকে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ। বেশিরভাগ হামলা হয়েছে ট্রেনে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিশ্চায়তা দিচ্ছেন বাংলায় এনআরসি বা নাগরিকত্ব আইন কোনটাই বাস্তবায়িত হবে না।

এদিকে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মেঘালয় সরকার।

এর আগে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই ক্রমশ জটিল হতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও।

শুক্রবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল অবরোধ করা হয়। আন্দোলন অব্যাহত থাকে শনিবারও।

আসামের পুরস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুয়াহাটিতে জারি করা হয়েছে কারফিউ।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ-আন্দোলন করার বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করবেন না, উত্তেজনা বা আতঙ্ক ছড়াবেন না, সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে পা দেবেন না।’

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে উপেক্ষা করেই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেছে গোটা রাজ্য।

মুর্শিদাবাদ জেলার পোড়াডাঙা, জঙ্গিপুর এবং ফারাক্কা স্টেশন এবং হাওড়া জেলার দক্ষিণ পূর্ব রেলপথে বাউরিয়া ও নলপুর স্টেশনগুলিতে দফায় দফায় রেল অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি তারা আগুন লাগিয়ে দেয় রাজ্য পরিবহন দফতরের অধীনস্থ তিনটি সরকারিসহ ১৫টি বাসে।

খবর এনডিটিভির।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.