চট্টগ্রাম নগরে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় সরব হয়ে উঠছে। গ্রামের এলাকায় এলাকায় ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রার্থীদের নাম–পরিচয় ও ইস্তেহার। এসবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মাইক। রিকশা, সিএনজিতে বেঁধে মাইক চলবে অলি–গলি থেকে শুরু করে মহাসড়কেও। শোনা যাবে সেই পরিচিত স্লোগান– ‘মা–বোনদের বলে যাই অমুক মার্কায় ভোট চাই। অমুক ভাইয়ের তুলনা কারো সাথে চলে না। অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, তমুক মার্কায় ভোট দিন’।
মাইক ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচন এলে মাইকের ব্যহার বাড়ে। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকে। এবারের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাইকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ত্রুটি–বিচ্যুতি ঠিক করা হয়েছে। যাতে অর্ডার পাওয়া মাত্র মাইক সরবরাহ করতে পারি। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় এবং বেশি মাইক রয়েছে এমন দোকানগুলো নগরীর সদরঘাটের আইস ফ্যাক্টরি রোডে অবস্থিত। গতকাল বিকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, মাইক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সিএনজিতে মাইক বসাচ্ছেন। আগামী ৫ জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।
এক মাইক ব্যবসায়ী বলেন, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস মাইকের সিজন। পিকনিক থেকে শুরু করে স্কুলের নবীন বরণ, এমনকি ওয়াজ মাহফিল নিয়েই থাকে আমাদের ব্যস্ততা। এসবের সাথে এবার যোগ হল নির্বাচন। এতে আমাদের ব্যস্ততা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। মৌসুমি শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করছি। ইতিমধ্যে অনেকে কাজে নেমে পড়েছেন। তিনি আরো বলেন , চট্টগ্রাম–৯ আসনের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম–১০ আসনের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু ও চট্টগ্রাম–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালামের পক্ষে মাইক অর্ডার করা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের সমর্থনে ২০ থেকে ৩০ টি মাইক প্রচারণায় অংশ নেবে। অর্ডার আরো আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, মাত্র প্রচারণা শুরু হল। আরো অর্ডার পাব। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। রিকশা, সিএনজির পাশাপাশি সমাবেশ, উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে নির্বাচনী নানা কার্যক্রমে মাইক সরবরাহ হয় বলেও জানান তিনি।
আইস ফ্যাক্টরি রোডের আরেক ব্যস্ত মাইকের প্রতিষ্ঠান ‘সুমন’। এর মালিক সুমনের নামেই প্রতষ্ঠিানটির নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল দোকানেই তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, প্রচারণা শুরু হয়েছে। মাইক ছাড়া প্রচারণা সম্ভব না। শীতকাল ছাড়া আমাদের তেমন কাজ থাকে না। নানা কিছুর সাথে এবার যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন। আশা করছি অর্ডার আসবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া আছে। একই এলাকার আরেক প্রতিষ্ঠান ‘মহানগর’। প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ থেকে ২০ টি মাইক প্রচারণায় যাবে। আইস ফ্যাক্টরি রোডে আরো অসংখ্য মাইক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ‘বন্ধু’ ও আজাদ। এসব প্রতিষ্ঠানেও জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচন থাকলে আয় ‘ডবল’ হয়। আইস ফ্যাক্টরি রোডে কর্মযজ্ঞ বেড়ে যায়। মৌসুমি শ্রমিকরাও প্রাণ ফিরে পায়। আয়ের সুযোগ তৈরি হয় তাদের। নগরীর নন্দনকাননের তমিজ মার্কেটে রয়েছে ৪০ বছরের পুরানো মাইকের প্রতিষ্ঠান বুক এন্ড মাইক।
উল্লেখ্য, মাইকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে দুপুর ২ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণ বিধিতে তা যুক্ত করেছেন।