কুষ্টিয়া-৪ আসন
নৌকার হাল ধরতে চান বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে শক্ত হাতে নৌকার হালটি ধরতে চান কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সদর উদ্দিন খান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের দূঃসময়ের ত্যাগী ও জোট সরকার আমলে নিষ্ঠুর নির্যাতিত এই নেতা অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে নৌকার পক্ষে উন্নয়ন প্রচার করে জোয়ার সৃষ্টি করছেন। পরপর কয়েকবার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান নিজের সাংগঠনিক যোগ্যতা আর মেধা-মননের কারণে বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। নিয়মিত গণসংযোগের পাশাপাশি তিনি দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গেও রাখছেন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। উপজেলা ও নয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন তার পক্ষেই একাট্টা।
খোকসা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আবু হাানিফ এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তথ্য দিয়ে জানান, কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী রাজনীতি বেশ জটিল এবং বহুভাগে বিভক্ত। এখানে দলীয় কোন্দল ফ্যাক্টর হয়েই রয়েছে। আর তাই অতীতে এই আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার রেকর্ডও যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনিই এবার একই পরিবার থেকে সাবেক এমপি সুলতানা তরুণসহ তিন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশা নতুন আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। এই আসনের বর্তমান এমপি আব্দুর রউফ। দলীয় কোন পদে না থেকেও তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েই চমক দেখান। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী সুলতানা তরুণের বিপক্ষে ফুটবল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করেন। ফলে ওই সময় আব্দুর রউফকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আব্দুর রউফকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন খোকসার গণমানুষের প্রাণের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সদর উদ্দিন খান।
নেতা-কর্মীরা বলছেন, আব্দুর রউফের সঙ্গে দলের প্রভাবশালী এক শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কের দারুণ টানাপোড়েন রয়েছে। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরেও দলের বড় একটা অংশ তার বিপক্ষেই অবস্থান নেয়। ফলে দলীয় কোন্দলে অনেকটাই অগোছালো হয়ে পড়ে এই আসনের দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। টিআর, কাবিখা ও সোলার প্যানেল, জমি আছে ঘর নেই এই প্রকল্পের আওতা স্থাপনসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে দলের বড় একটি অংশ এমপির বিপক্ষে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে এমপি রউফকে যেকোন মুল্যে ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও তরুণ নেতৃত্বসহ বেশ ক’জন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি আব্দুর রউফ বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কয়েক নেতা কোন্দলে জড়িত। তাই তাদের পাশে কেউই নেই। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গেই রয়েছে। গুটিকয়েক নেতা-কর্মী তার বিরুদ্ধে কুৎসিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এইসব করেও কোন ফায়দা তোলার সুযোগ নেই বলেও দাবী করেন তিনি।’ এদিকে, খোকসা উপজেলার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে অনেক আগে থেকেই মাঠে সরব রয়েছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান। তিনি গণসংযোগ ও লবিংয়ে কুমারখালীর নেতাদের চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবী তার তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।
কুমারখালী উপজেলা নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রকট দ্বন্দ্ব থাকলেও খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগ এ থেকে অনেকটাই মুক্ত বলে দাবী করে খোকসা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, থানা, পৌর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এখন সদর খানের একক নেতৃত্বের পক্ষেই একাট্টা।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রায় পুরোটা সময় ধরেই চালানো নানারকম নির্মম নির্যাতনের কথা তুলে ধরে উদিয়মান তরুণ প্রজন্মের এই নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, সেই সময়টাতে নির্মমতার শিকারে পরিণত হয়ে একাধিকবার মৃত্যুর দূয়ার ফেরত অসীম সাহসী ও দৃঢ় মনোবলের নেতা সদর উদ্দিন খানের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বেগুনের কারণেই আজ খোকসার মতো উপজেলাতেও দল এখন সাংগঠনিক দিকে দিয়ে ভীষন শক্তিশালী।
এদিকে, অবহেলিত ও নাঙ্গা-ভাঙ্গা নেতাকর্মীরা এমপি আব্দুর রউফের সঙ্গে মতবিরোধে থাকলেও সদর খান দাবি করে বলেন, ‘কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই রয়েছেন তাঁর সঙ্গেই। এলাকার মানুষ ভোট দিয়ে তাঁকে একাধিকবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। এলাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ আসনে দল থেকে যোগ্যতা বিবেচনায় তাঁকে নৌকার কান্ডারী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি দুটি উপজেলাকে শতভাগ মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় আশাবাদও ব্যক্ত করেন। গরিব মেহনতী মানুষের নেতা আলহাজ্ব মো. সদর উদ্দিন খান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.