বিজয় কুমার,গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাউসি গ্রামে সিনথিয়া আক্তার (৭) নামে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষন পরবর্তি হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের ছেলে আহসান হাবীব সিজার (২২) ও ছায়দার হোসেনের ছেলে মাজেদুল ইসলাম কাল্টু মিয়া (২৮)কে আটক করেছে পুলিশ। সিনথিয়ার পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ফুলছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট শেষে বাড়ি আসে। এরপর বাড়ির পাশের একটি দোকানে গেলে আর বাড়িতে ফেরেনি।পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পায়নি।
এরপর শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশের পুকুরে একটি কচুরিপানার স্তুপ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।পরে ওই কচুরিপানার নিচে সিনথিয়া লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের পর শিশু সিনথিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিনথিয়ার দাদা গেলেন্দা শেখ বলেন, ‘ঈদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনা হলেও সিনথিয়ার তা পরা হলো না। সিজার সহ ওর সহযোগিরা ধর্ষণ পরবর্তি হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় সিনথিয়ার বাবা সেলিম মিয়া তিন জনকে আসামী করে ফুলছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সেলিম মিয়ার অভিযোগ ‘আটক দু’জন পুলিশ ও জনগণের সামনে ধর্ষণ এবং হত্যার কথা স্বীকার করলেও একটি মহল পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. ওসমান আলী ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তাদের এখনো আটক দেখানো হয়নি। আসলে তারা এ ঘটনায় জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ওসি আরো বলেন, ‘শিশু সিনথিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্যভাবে তার মৃত্যু হয়েছে- তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শিশু সিনথিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।