চট্টগ্রামের বায়েজীদ থানাধীন শেরশাহ কলোনীর পাশে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইমারাতুন্নেছা সিটি কর্পোরেশন কিন্ডারগার্টেনে ব্যাপক র্দুনীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, এই বিদ্যালয়ের ৩৮ লক্ষ টাকা তছরুপ হয়েছে এবং বিগত বছরগুলোতে সঠিক এবং নিয়মিত অডিট সম্পূর্ণ হয়নি। অর্থ আত্মসাতের ঘটনা স্বীকারোক্তির পরও আত্মসাৎকারী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ম্যানেজের মাধ্যমে বহাল তবিয়তেই স্কুলে এখনো চাকুরী করছেন অভিযোগে পাওয়া যায়। অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ফাস হলে এবং এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হলে তড়িগড়ি করে স্কুলের কোষাধ্যক্ষ হালিমা ম্যাডাম এই অর্থ আত্মসাত নিজে করেছেন বলে স্বীকার করে ৮ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে কর্পোরেশনকে নগদে জমা দিয়ে বাকী টাকা কিস্তিতে জমা দিবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে সচেতন মহলে ব্যপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা আজাদ সাইকার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। বর্তমান নবাগত প্রধান শিক্ষিকা শাহিনা বেগম বলেন, আমি নতুন এসেছি, দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতির বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি কর্পোরেশনের তদন্তনাধীন রয়েছে। এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারবনা।
২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ঘটনা সত্য। তবে স্কুলের হিসাব বিভাগ পরিচালনা কারী হালিমা ম্যাডাম নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনিই সকলের অগোচরে এই সমদুয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কাউন্সিলর হিসাবে আমার দায়িত্ব ছিল স্কুলের পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা দেখা। অডিটের বিষয়গুলো সম্পূর্ন রুপে স্কুল কতৃপক্ষ দেখত। আর অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বিগত বছর গুলোতে কর্পোরেশনের কোন অভিযোগ না থাকায় আমিও ভেবেছিলাম, অডিট ঠিকমতো হচ্ছে। কর্পোরেশনে হিসাব-নিকাশ ঠিকমতো যাচ্ছে। এর মধ্যে এতোযে র্দূণীতি হচ্ছে আমিও অবগত ছিলাম না। এই বিষয়ে আমি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও বলেন, তিনি দুর্ণীতির বিষয়টি অবগত নয়।
বর্তমান কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, আমি স্কুলের কতৃপক্ষের মারফত জানতে পারি স্কুল ফান্ডের ৩৮ লক্ষ টাকা আত্মসাত হয়েছে। যা স্কুলের কোষাধ্যক্ষ হালিমা ম্যাডাম ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন তিনিই উল্লেখিত টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে কর্পোরেশনে জমাও দিয়েছেন। বিষয়টি জেনে আমি স্কুলে যাই এবং সরেজমিনে আরো জানতে পারি যে, স্কুলের পূর্ব কমিটির মেয়াদ গত তিন বছর পূর্বে শেষ হল্ওে রহস্যজনক কারনে নতুন কোন কমিটি করা হয়নি এবং অডিটও নিয়মিত করা হয়নি। যার ফলে এতবড় দুর্ণীতি করার সুযোগ পেয়েছে। যারা এই আত্মসাতের সাথে জড়িত প্রকৃত তদন্ত পূর্বক তাদের শাস্তি হউক এটা অবশ্যই চাই। হালিমা ম্যাডাম স্বিকার করা সত্বেও তিনি কিভাবে চাকুরীতে বহাল তবিয়তে আছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি ন্যাশনাল নিউজ টোয়ান্টিফোর বিডিকে বলেন, বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র সাহেবের নলেজে আছে। তার চাকুরিতে বহাল থাকা বা স্থগিত করার বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কর্পোরেশনের।