সরকার পতনে উপযুক্ত সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। একটি বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে সরকার পতনের আন্দোলন হবে। সেই ঐক্যই হবে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের মূল কারণ।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও চিকিৎসা নিয়ে সরকারের নোংরা কৌশল বন্ধের দাবীতে জাতীয় নাগরিক অধিকার মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দিনে গণজোয়ার তৈরি হবে মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, আমাদের প্রথম এজেন্ডা হলো খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। সরকার চেষ্টা করবে তাঁকে বেশিদিন কারাগারে রাখতে। কারণ সরকার তাঁকে ভয় পায়। তিনি অবশ্যই মুক্তি পাবেন এবং যেদিন তিনি মুক্তি পাবেন সেদিন নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে।
সরকার পতনের জন্য জাতীয় ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন বিভিন্ন সময়ে দল পাল্টিয়ে বিএনপিতে থিতু হওয়া সাবেক এ আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের বাইরের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্য হবে সরকার পতনের মূল কারণ। এই ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঐক্য গড়ে তোলার পর উপযুক্ত সময়ে কর্মসূচি দেওয়া হবে। এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ৭৫ সালের আওয়ামী লীগ আর বর্তমান আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা তখন যে বাকশাল কায়েম করেছিল। যদিও সেটা লিখিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অলিখিতভাবে প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার মধ্য দিয়ে সরকার দেশ চালাচ্ছে। এই যে কলঙ্ক আওয়ামী লীগ লেপন করল এ থেকে আওয়ামী লীগ কোনোদিনই মুক্ত হতে পারবে না।
খুলনা-গাজীপুরের মতো করে তিন সিটি নির্বাচন করলে বিএনপি আন্দোলনে যাবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের বাকি নির্বাচন সরকারের জন্য পরীক্ষা। আর আমাদের জন্য যে দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না—সেটা জনগণকে বোঝানো। বাকি তিন সিটি নির্বাচনেও যদি গাজীপুর ও খুলনার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে আমাদের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তখন আর আপনাদের এই বদ্ধ ঘরে থাকতে হবে না। আপনারা তখন রাজপথে থাকবেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, খালেদা ইয়াসমিন।