বেরিয়ে আসছে কাউন্সিলর রুমকির বেপরোয়া আচরণ

0

বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষিতা ও তার মা’কে নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তুফান সরকারের সঙ্গে সমানভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তার স্ত্রীর বড় বোন মার্জিয়া হাসান রুমকির নামও। স্থানীয় এই ওয়ার্ড কাউন্সিলরই পরে বিচারের কথা বলে মা ও মেয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে।

তবে রুমকির হাতে নির্যাতনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি মানুষের সঙ্গে এরকম বেপরোয়া আচরণ করেছেন।

মাস চারেক আগের ঘটনা। বগুড়ার লতিফপুর কলোনির মো. পলাশ নামের এক মুদি দোকানি এক মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন ছোট মেয়ে বদ্ধ দরজার পাশে বসে কাঁদছেন। বাবা জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, রুমকি কাউন্সিলর তাকে ও তার এক বান্ধবীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরও করেছেন। কারণ জানতে চাইলে মেয়ে জানায়, রুমকির ছোট ভাই মোবাইল ফোনে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। তাই রুমকি তার বিচার করেছেন। এরপর এসে ঘরে তালা দিয়ে গেছেন। সেই রাতে দুই মেয়ে নিয়ে পলাশ দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরেই থাকার পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার অনুরোধে রুমকি ঘরের তালা খুলে দেন।

ইতিমধ্যে ধর্ষণ মামলায় রুমকি গ্রেফতার হয়েছে। তারপরও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও নিজের ভেতরের ভীতি প্রকাশ করতে ভুলেননি দোকানি পলাশ।

রুমকি প্রায় নারীদের নির্যাতন করতেন- এমন অভিযোগের পর এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রুমকির বাড়ির গৃহকর্মী নির্যাতনের কথা। বলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে বাসার গৃহকর্মীর মেয়েকেও নির্মমভাবে নির্যাতন করেন রুমকি। ঘরে তালা দিয়ে হুমকির পর সেই দরিদ্র পরিবারটি এখন এলাকাছাড়া।

এলাকাবাসীর মতে, নির্যাতনের পর ঘরে তালা দেওয়া রুমকির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের একটি অংশ। কিছু হলেই রুমকি মানুষের ঘরে তালা দেয়। কেউ প্রতিবাদ না করায় এত সাহস পেয়েছে বলেও তাদের দাবি।

প্রসঙ্গত, ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৭ জুলাই এক কিশোরীকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে ও তার মাকে নির্যাতন করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) তুফান সরকার, তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন, আশার বোন ও নারী কাউন্সিলর রুমকিসহ তাঁদের সহযোগীরা। এ ঘটনার পর চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.