
গুলি করে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করার খবর নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তান জানায়, তারা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালিয়ে দুটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে।
এসময় একজন ভারতীয় পাইলটকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বিমান হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের সীমানায় প্রবেশ করার পর দুটি বিমান ভূপাতিত এবং একজন পাইলটকে আটক করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে বলেন, পাকিস্তান বিমানবাহিনী দেশটির আকাশসীমায় দুটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে। একটি বিমান আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ভূপাতিত হয়েছে এবং অন্যটি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভেতর নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় স্থলবাহিনী একজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে ভারতীয় কর্মকর্তারা। তারা জানান, আজ বুধবার স্থানীয় সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বুদগামের গারেন্ড কালান গ্রামের কাছে একটি উন্মুক্ত স্থানে ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বোমা হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।
স্থানীয় সময় ভোর রাতে ১২টি মিরেজ-২০০০ জঙ্গিবিমান জঈশ-ই-মোহাম্মদ, হিজবুল্লাহ মুজাহেদীন ও লস্কর-ই-তৈয়েবার স্থাপনা টার্গেট করে হামলা চালায়।
বোমাবর্ষণ করা হয়েছে মুজাফফরাবাদ ও ছাকোতি শহরেও। এ সময় এক হাজার কেজি বোমা ফেলা হয়।
মঙ্গলবার পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানও। ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।
তিনি শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী, সেনাপ্রধান ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাসহ সশস্ত্র বাহিনীকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেছেন, ‘বুধবার (আজ) পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশন হবে।
এরপরই পরমাণু অস্ত্রবিষয়ক কমিটি ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির (এনসিএ) সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।’ এ হামলায় ভারত তিনশ’ নিহতের যে দাবি করেছে পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করে। এদিকে হামলার পর থেকে ভারতের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ওই বিমানটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিক আগুন লেগে যায়। যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে দুজনের মৃতদেহ দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।