জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, ভবিষ্যতের শিল্প বিপ্লবের বাংলাদেশ গড়তে পল্লীবন্ধুর হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি আজ দিক নির্দেশনা দেবেন। মানুষের মুক্তির একমাত্র ভরসা আজ এরশাদ।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার সকালে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সালমা ইসলাম এমপি বলেন, সাধারণ মানুষ এরশাদকে ভালোবাসেন। জাতীয় পার্টির প্রতি এখনো সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই বিশাল জনসমুদ্রই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে জাতীয় পার্টি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। দুটি দল দেশকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। সেখান থেকে মানুষের মুক্তির একমাত্র ভরসা এরশাদ।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পার্টিকে বারবার ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ঘোষণা করতে চাই, আমরাই এ দেশের রাজনীতির গতিধারার নিয়ন্ত্রক। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে এরশাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করবো আমরা।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যর জানান দিতে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের এই মহাসমাবেশ এখন নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ।
ইতিমধ্যে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। সকাল থেকেই সমাবেশে অংশ নিতে উদ্যানে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূলের হাজার-হাজার নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা উদ্যানে আসতে থাকেন।
অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের মহাসমাবেশে বৃহত্তম জমায়েতের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় দলটি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ মহাসমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন, দেবেন রাজনীতিতে নতুন বার্তা।
সকাল ১০টায় মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে বেলা ১১টায়। শাহবাগ থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক তোরণ। সমাবেশ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে মাঠ ও আশপাশের এলাকা।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার দিয়ে সমাবেশের চারপাশ সাজানো হয়েছে।
উদ্যানের ঠিক মাঝখানে উত্তরমুখী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রধান মঞ্চের কয়েক ফুট দূরেই রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১৫০টি মাইক লাগানো হয়েছে।
পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের বিশাল আকৃতির ছবি শোভা পাচ্ছে মাঠজুড়ে। এছাড়া পুরো উদ্যান ভরে গেছে নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে।