রাউজানের ৮০ বছরের বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়ার দুর্বিষহ জীবনে যেন দেখার কেউ নেই

0

রাউজান প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের সমশের পাড়ার পাশে এম বদিউল আলমের বাড়ির ৮০ বছরের বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়ার দুর্বিষহ জীবনে যেন দেখার কেউ নেই।  এই বৃদ্ধ বয়সে অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয় তাকে। চোখে ছানি পড়ায় ভালো করে দেখেন না। স্মৃতিশক্তিও লোপ পাচ্ছে দিন দিন।  কাজ করে খাওয়ার কোন শক্তি নেই তার। জানা যায়, সরকারের দেয়া  বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে সামাজিক সহযোগীতা কিছুই পান না তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেড়শ বছর আগে তার বাবার আমলে করা এক রুমের ছোট্ট একটি মাটির ঘর । তাও চারিদিকের মাটি সড়ে যেয়ে দেয়ালে বড় বড় ফুটো হয়ে যাওয়ায় বাইর থেকে ঘরের ভিতর দেখা যায়। অনেক জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। মাটির দেয়ালের উপড়ে অনেক পুরোনো টিনের ছাদ। অনেক জায়গায় বড় বড় ফুটো , ঘর থেকেই আকাশ দেখা যায়। যেকোন সময় সাধারন বৃষ্টি বা তুফানে ভেঙ্গে যেতে পারে তার ঘরটি। হয়তো বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়াও তার বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে সে ভাঙ্গা ঘরের নিচেই দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে। জানা যায়, এক সময় কৃষিকাজ করতেন তিনি। বার্ধক্যর গ্রাসে এখন শুয়া থেকে উঠতে পারেনা এই বৃদ্ধ। স্ত্রী জরিনা খাতুনের বয়সও প্রায় ৭০ বছর। তিনিও জীর্ন র্শীর্ণ  শরীর নিয়ে কোনরকম চলছেন। ৫ ছেলে, ২ মেয়ে নিয়ে ছিল তার সংসার। সন্তানেরা বড় হলে এক ছেলে সিএনজি চালাতো। দুর্ঘটনার কালো ছায়ায় চিকিৎসার অভাবে মারা যায় সে, বাকী ৩ ছেলে নিজেদের সংসার নিয়ে এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র থাকে,  যে ছেলেটি তার পাশে আছে সে ভাড়া সিএনজি  চালায়। বর্তমান দ্রব্যমুল্যর বাজারে তার সন্তানদের খরছ চালিয়ে নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তাই বৃদ্ধ পিতা মাতার দিকে ভালোভাবে তাকাবার মতো অর্থ তার কাছে নেই।

বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়া ন্যাশনাল নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী বৃদ্ধ।  দুজনেই অসুস্থ। অনেক সময় বসলে উঠতে পারিনা। এক বেলা পেলে খাই, আর না পেলে খাইনা। বিছানায় পড়ে থাকি। প্রতি সপ্তাহে আমার ও আপনার বৃদ্ধ চাচির এক হাজার টাকার ঔষধ লাগে, খানাপিনা আছে। কিভাবে দিন যাপন করবো? কারু কোন সাহায্য পায় কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন,  আইডিএফের পক্ষ থেকে ২মাস পরপর ১০০০/-টাকা দেয়। যা দিয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী কোনভাবেই চলতে পারিনা। প্রায় সময়ে এ এলাকায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার আসে কিন্ত আমাদের কোন খোজ খবর নেয়না । আমার তালিজুরা দেয়া ঘরটি দেখেও তারা এগিয়ে আসেনা। আমাকেও কেউ প্রশ্নও করেনা। সমাজে অনেক উচ্চবিত্ত আছে তারাও কেউ কোনরুপ  সহযোগীতার জন্য এগিয়ে আসেনা। কিভাবে বাচবো জানিনা,তবে আমরা আল্লাহর উপর ভরসা। আল্লাহ নিয়ে গেলে বেচে যাই।

বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধ আনোয়ার মিয়া বলেন, আমি হাটতে পারিনা। আর তাছাড়া এসবের নিয়ম কানুনও জানিনা। কোথায় যেতে হবে তাও বুঝিনা।
এ বিষয়ে এলাকার প্রতিবেশী হোসেন মিয়া বলেন, তাদের কষ্ট বহুদিন ধরে দেখছি। অনেক সময় সহ্য হয়না। নিজের সামর্থ্যমতো মাঝে মাঝে সামান্য সহযোগীতা করি। যা দিয়ে তাদের একবেলার আহার হয় না। তবে সমাজের বিত্তবানরা ও চেয়ারম্যান মেম্বার সাহেবরা এগিয়ে এসে সরকারি সহযোগীতা গুলো দিলে তাদের অসহায় ও কষ্টের জীবন অনেকটা কমে যেতো।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.