হাবিব জুয়েল, রাজশাহী প্রতিনিধি : বিপিএল কেন্দ্র করে নগরীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে বসছে এসব জুয়ার আসর।স্থানীয়ভাবে যেগুলো বিপিএল জুয়ার বোর্ড নামে ডাকা হচ্ছে।আবার ফোনে ফোনেও চলছে জুয়ার টাকার লেনদেন।বাজি খেলার নামে এসব বোর্ডে প্রতিদিন কোটি টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে।
এক শ্রেণির লোকের এখন আসল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ জুয়া। এতে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কাউন্সিলর সহ নানা পেশার মানুষও জড়িয়ে পড়ছে বাজির জুয়ায়। সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই। জুয়ার টাকা দিতে না পারায় ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনাও।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত হওয়া চার ম্যাচে প্রায় ২৫ কোটি টাকার উপরে জুয়া খেলা হয়েছে শুধু রাজশাহীর বিভিন্ন বড় বড় হোটেল এবং রেস্তোরাগুলোতে। আর হিসেব ছাড়াই সারা দেশে চলছে জুয়া খেলা। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় হোটেল-রেস্তোরা এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েও চলছে বিপিএল নিয়ে জুয়ার এই ভয়ঙ্কর আসর।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জুয়াড়িরা সামনাসামনি না থেকে ব্যবহার করছেন মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসবের মাধ্যমেই তারা প্রতি ম্যাচ, বল, ওভার কিংবা ব্যাটসম্যানের রানের দর ঠিক করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গ্রুপ করে বল প্রতি জুয়া খেলা চলছে।
বিপিএলকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় আলাদ করেই জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। যা হঠাত দেখলে বোঝার উপায়ই নেই। দেখলে মনে হবে ছোট একটা চায়ের দোকান অথবা শুধুই খেলা দেখার ব্যবস্থা। আসলে সেখানেই চলছে অনিয়ন্ত্রিত ‘বিপিএল গেম্বলিং।’ তবে এখন পর্যন্ত জুয়ার বিষয়ে নগরীর ৪ থানা জুড়ে কোন আসামিই গ্রেফতার করতে পারেনি রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
এ বিষয়ে রাজশাহী শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মালোপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির বলেন -বিপিএলের বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। যথাযথ অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। সেই সাথে আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে।
বিপিএলের নামে জুয়া চলার বিষয়টি স্বীকার করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখ্যপাত্র ইফতে খায়ের আলম। তিনি বলেন, সাধারণত এসব জুয়াগুলো হচ্ছে মোবাইলে। তাই কাউকে ধরা যাচ্ছে না। জুয়ার টাকার ভাগও হচ্ছে মোবাইলে। ফলে ক্রমেই জুয়া ছড়িয়ে পড়ছে নগরীতে। তবে পুলিশ সচেষ্ট আছে জুয়ার আসর যেন কেউ না বসাতে পারে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন – বিপিএলের নামে যে জুয়া মহানগরীতে চলছে তাদের গড ফাদাররা বেশির ভাগই প্রভাবশালী।তবে আইনের চোখে যে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।