রাশেদুল আজীজ: অর্ন্তকোন্দল ও ঝিমিয়ে পড়া চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মিরা যেন নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন লালদিঘীর মহাসমাবেশের পর। দীর্ঘদিন পরে হলেও জাতীয় জোটের অধীনে চট্টগ্রামের লালদিঘীতে এই সফল সমাবেশ নেতাকর্মিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জেলা, উপজেলা থেকে আগত তৃনমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে হানাহানির রাজনীতির বিপরীতে শান্তির রাজনীতি করে যাচ্ছে। এবং জাতীয় পার্টির আমলে দেশ উন্নয়নমূখী ছিল। বড় দু’দলের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবে দেশের জনগণ ফুসে উঠেছে তাই বর্তমান সময়ের জনগণ পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টিকে চায়।
দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায়। মানুষ সকল অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। আমি চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি, চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করার জন্য চেষ্টা করেছি। আমি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। লালদিঘীর মহাসমাবেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের এই ভাষনকে জাতীয় পার্টিসহ জাতীয় জোটের নেতাকর্মিরা ভিন্নরুপে দেখেছে। এরশাদ যেন জনমানুষের প্রাণের কথাগুলোই বলেছিল।
চট্টগ্রাম মহানগর জাতিয় পার্টির আহবায়ক আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ জানান, মহাসমাবেশে জাতীয় পার্টি প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের ভাষন শোনার জন্য ঝাকে ঝাকে নেতাকর্মিরা জেলা, উপজেলা, থানা, ্ওয়ার্ড পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসে। পার্টি প্রধানের বক্তব্য শুনে নতুন উম্মাদনা এবং উজ্জিবীত হয়ে কাজ করার সংকল্প নেয়। ইতিমধ্যে থানা, ওয়ার্ড লেভেলেও নতুন কমিটি করা হয়েছে। সকল দলীয় কর্মকান্ড গুছানো ভাবেই করা হচ্ছে। আগামী জাতিয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রের মতামতের ভিত্তিতে আমরা সফলতার লক্ষ্যে এক জোট হয়ে কাজ করে যাবো।
জাতীয় পার্টির মহানগর যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব সামশুল আলম দুলাল তার মন্তব্যে বলেন, ইসলামী ফ্রন্টের সাথে সাথে আমরাও উজ্জীবিত হয়েছি। চট্টগ্রামে সফল একটি মহাসমাবেশ হয়েছে। আমি মনে করি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা, থানা-ওয়ার্ডের সকলেই এই মহাসমাবেশে যোগদিয়ে উজ্ঝীবিত হয়েছে। কেন্দ্রের পরামর্শে সবাই একসাথে কাজ করে আগামী দিনের সফলতার দ্বারপ্রান্তে আমরা পৌছব।
জাতীয় পার্টির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির মহানগর আহবায়ক জহুরুল ইসলাম রেজা বলেন, এমপি মেহজাবিন মোরশেদের নেতৃত্বে যে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তা পরবতীর্তে যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। মন্ত্রীমহোদয় ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন বাবলূ, এমপি মেহেজাবিন মোরশেদ , মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী , সোলায়মান আলম শেঠসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয় দলীয় সকল কর্মকান্ডের মাধ্যমে তবে জাতিয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ভাল ফল অর্জন করতে পারবে।
মহানগর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও চট্টগ্রাম লালদিঘীতে ৭ এপ্রিল মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে তৃনমুল নেতাকর্মিরা শুধুই উজ্জীবিত হয়নি, এক হয়ে কাজ করার প্রেরণাও পেয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিনিয়র নেতাদের কাছে আমার বক্তব্য মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় অর্ন্তকোন্দল সমাধান করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আগামী নির্বাচন অংশ গ্রহন করলে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
জাতীয় কৃষক পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এনামুল হক বেলাল বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ। মেহনতী মানুষ বর্তমানে কষ্টে আছে। নিত্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস, পানির ও বিদ্যুতের দাম বার বার বৃদ্ধিতে নগর জীবনের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এতে সরকারকে আগামী নির্বাচনে মাশুল দিতে হবে। তাই লালদিঘীর মহাসমাবেশে পার্টি প্রধানের বক্তব্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মিরা লুপে নিয়েছে। আমাদের জাতীয় কৃষক পার্টির নেতৃবৃন্দরাও যথেষ্ট উজ্জীবিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক এম আজগর আলী বলেন, লালদিঘীর মহাসমাবেশ আমাদেরকে আশার চেয়ে বেশী উজ্ঝীবিত করেছে এবং পার্টি প্রধান আমাদেরকে একটি ঐক্যর বন্ধণে কাজ করার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠের নেতৃত্বে সেই ঐক্যের বন্ধনে কাজ করে যাবো।
দুর্দান্ত প্রতাপে নব্বইর দশকে নয় বছর ব্যাপি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেন জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার শাষন আমলে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি জেলে থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনিই একমাত্র হেভিওয়েট! যাকে জেলে যেতে হয়েছে। তার দল জাতীয় পার্টি বর্তমান সরকারের মন্ত্রি পরিষদেও আছে, সংসদে বিরোধী দলিয় নেতৃত্বেও আছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিশেষ দূত হিসাবে আছেন। গত ৭ এপ্রিল এরশাদ চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে সম্মিলিত জাতিয় জোটের ব্যানারে মহাসমাবেশ করে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালদিঘীর মহাসমাবেশের পর তৃনমূল জাতিয় পার্টি বেশ উজ্জিবীত। পার্টির কর্মি বাহিনী নিজেদের অবস্থান নিয়ে যেখানে দ্বিধা দ্বন্ধে ছিল, তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে ।