গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস । ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। নব্বইয়ের দশকে বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
তার ছেলে মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউনাইটেড হাসপাতালের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, রাত ৮টা ২৭ মিনিটে বনানীর গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাসভবন থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনা হয়। তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আবদুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং তিনি আইনেও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
ছেলে মুন বিশ্বাস জানান, বড় ভাই এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে তার বাবার দাফনকাজ সম্পন্ন হবে। এখন ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে লাশ রাখা হয়েছে।
১৯৯১ এর ১০ অক্টোবর থেকে ’৯৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস ৪ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। এরা হলেন, শামসুদ্দোজা কালাম বিশ্বাস, এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস, মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস, জামিরুল রহমান শিবলী বিশ্বাস এবং দুই মেয়ে আঁখি বিশ্বাস ও রোমেন বিশ্বাস রুবে।
স্ত্রী হোসেনে আরা রহমান এ বছরের ২৩ জুন মারা যান। এক ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম বিশ্বাস ১৯৯৮ সালে মারা যান। এর আগে বাবা রাষ্ট্রপতি হলে ওই আসন থেকে নাসিম বিশ্বাস ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে আবদুর রহমান বিশ্বাস পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ’৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। জিয়াউর রহমানের সময় থেকে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালে সংসদের স্পিকার ছিলেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৯৬ সালে এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসিত হন তিনি।রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
রাষ্ট্রপতির শোক : বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি গতকাল এক শোকবার্তায় তার রূহের শান্তি কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার শোক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি মরহুমের ছেলেসহ আত্মীয়স্বজনের সাথে কথা বলেন।